বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ তীব্রতর হয়েছে, যার ফলে সরকার কঠোর দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। প্রায় ৫০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নেতৃত্বাধীন সরকার এই ব্যাপক বিক্ষোভকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।
সরকার তার প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ রক্ষার জন্য বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্রমবর্ধমান সহিংস পন্থা অবলম্বন করছে। অনেক ইরানি মনে করেন সরকার তাদের উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলে দেশজুড়ে সরকার পরিবর্তনের দাবিতে বড় আকারের বিক্ষোভ হচ্ছে।
কেউ কেউ আশা করছেন এই বিক্ষোভ ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের মতো সরকারের পতন ঘটাবে, যে বিপ্লবের মাধ্যমে ইরানের শাহকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়েছিল। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন অদূর ভবিষ্যতে এমন ফলাফল আসার সম্ভাবনা কম। তাদের ধারণা সরকার সম্ভবত বর্তমান অস্থিরতা দমন করবে, কিন্তু জনগণের মধ্যে অসন্তোষ থেকেই যাবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভেজ বলেন, "সরকার একটি অস্তিত্বের সংকট অনুভব করেছে এবং কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, তাই আমার মনে হয় এই দফা সম্ভবত শেষ।"
বিক্ষোভগুলো অনেক ইরানির মধ্যে গভীর হতাশা তুলে ধরেছে, যারা মনে করেন সরকার তাদের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, সামাজিক বিধিনিষেধ এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাবের কারণে এই অসন্তোষ বহু বছর ধরে জমছে। বর্তমান বিক্ষোভ এই দীর্ঘমেয়াদী অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ।
সরকার বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা চালালেও অন্তর্নিহিত ক্ষোভ এবং হতাশা সম্ভবত দূর হবে না। বিক্ষোভগুলো জনগণের মধ্যে এমন এক অসন্তোষের মাত্রা প্রকাশ করেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে দমন করা অসম্ভব হতে পারে। এর থেকে বোঝা যায় সরকার হয়তো এই দফার বিক্ষোভ থেকে টিকে যাবে, তবে এর কর্তৃত্বের প্রতি চ্যালেঞ্জ সম্ভবত অব্যাহত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment