কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি আরভিং মেডিক্যাল সেন্টারের গবেষকরা কোলেস্টেরল-হ্রাসকারী স্ট্যাটিন গ্রহণের কারণে অনেক ব্যক্তির পেশীতে ব্যথা এবং দুর্বলতার জন্য ওষুধ বন্ধ করে দেওয়ার কারণ অনুসন্ধানে একটি সম্ভাব্য সাফল্যের ঘোষণা করেছেন। ২০২৬ সালের ১৪ই জানুয়ারি প্রকাশিত গবেষণাটি বলছে যে, কিছু স্ট্যাটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশী প্রোটিনের সাথে আবদ্ধ হতে পারে, যা পেশী কোষের মধ্যে সামান্য কিন্তু ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম নিঃসরণকে ট্রিগার করে।
গবেষকদের মতে, এই ক্যালসিয়াম নিঃসরণ সরাসরি পেশী দুর্বল করতে পারে অথবা এমন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে যা ধীরে ধীরে সেগুলোকে দুর্বল করে দেয়, যা স্ট্যাটিন-সম্পর্কিত অস্বস্তির একটি দীর্ঘ-অনুসন্ধানকৃত ব্যাখ্যা দেয়। এই ফলাফলগুলি নতুন করে ডিজাইন করা স্ট্যাটিন বা নতুন চিকিৎসার পথ খুলে দিতে পারে যা কার্যকরভাবে কোলেস্টেরল কমানোর পাশাপাশি পেশীগুলোকে রক্ষা করে।
পেশীতে ব্যথা, দুর্বলতা এবং ক্রমাগত ক্লান্তি হলো সবচেয়ে প্রচলিত কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার জন্য রোগীরা স্ট্যাটিন গ্রহণ বন্ধ করে দেয়, যা হৃদরোগ এবং স্ট্রোক প্রতিরোধে ব্যবহৃত ওষুধের আনুগত্যকে প্রভাবিত করে। নতুন গবেষণাটি এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়া সরবরাহ করে, যা নির্দিষ্ট স্ট্যাটিন এবং পেশী কোষের মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে।
কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের প্রধান গবেষক ডঃ এমিলি কার্টার ব্যাখ্যা করেছেন, "আমরা নির্দিষ্ট স্ট্যাটিন এবং পেশী কোষের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট মিথস্ক্রিয়া সনাক্ত করেছি যা ক্যালসিয়াম নিঃসরণের জন্য দায়ী বলে মনে হয়।" "এই নিঃসরণ পেশী কোষের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে, যার ফলে কিছু রোগীর ব্যথা এবং দুর্বলতা দেখা যায়।"
গবেষণায় স্ট্যাটিন-সম্পর্কিত পেশী ব্যথার অভিযোগ করা রোগীদের থেকে পেশী টিস্যুর নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উন্নত ইমেজিং কৌশল এবং কম্পিউটেশনাল মডেলিং ব্যবহার করে, দলটি সনাক্ত করেছে যে কিছু স্ট্যাটিন একটি বিশেষ পেশী প্রোটিনের প্রতি বেশি আকর্ষণ দেখায়, যা থেকে ক্যালসিয়াম নিঃসরণ হতে দেখা যায়।
স্ট্যাটিন হলো এক শ্রেণির ওষুধ যা কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং কার্ডিওভাসকুলার রোগের ঝুঁকি কমাতে ব্যাপকভাবে prescribed করা হয়। সাধারণত নিরাপদ এবং কার্যকর হিসাবে বিবেচিত হলেও, পেশীতে ব্যথা একটি বহুল পরিচিত পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীকে প্রভাবিত করে। এই পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারণে প্রায়শই ওষুধ গ্রহণে অনীহা দেখা যায়, যা ওষুধের উপকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে।
এই আবিষ্কার স্ট্যাটিন থেরাপির ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ওষুধ প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলো এই তথ্য ব্যবহার করে নতুন স্ট্যাটিন ডিজাইন করতে সক্ষম হতে পারে যা পেশীতে ব্যথার কারণ হওয়ার সম্ভাবনা কম। বিকল্পভাবে, গবেষকরা এমন থেরাপি তৈরি করার দিকে মনোযোগ দিতে পারেন যা বিশেষভাবে ক্যালসিয়াম নিঃসরণকে লক্ষ্য করে, যা পেশীগুলোকে স্ট্যাটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করে।
ডঃ কার্টার বলেছেন, "আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ হলো স্ট্যাটিন এবং পেশী প্রোটিনের মধ্যেকার নির্দিষ্ট গঠনগত মিথস্ক্রিয়াগুলো আরও গভীরভাবে অনুসন্ধান করা।" "এটি আমাদের প্রক্রিয়াটির আরও ভালোভাবে বুঝতে এবং चिकित্সা বিষয়ক হস্তক্ষেপের জন্য সম্ভাব্য লক্ষ্য সনাক্ত করতে সহায়তা করবে।" দলটি স্ট্যাটিন গ্রহণকারী রোগীদের মধ্যে সম্ভাব্য পেশী-সুরক্ষাকারী থেরাপির কার্যকারিতা পরীক্ষা করার জন্য ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করার পরিকল্পনাও করছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment