বৈশ্বিক জলবায়ু পর্যবেক্ষণকারী দলগুলো জানিয়েছে যে ২০২৫ সালে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা রেকর্ডে থাকা উষ্ণতম বছরগুলোর মধ্যে একটি ছিল। বিজ্ঞানীরা এই ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধিকে জলবায়ু পরিবর্তনের "সতর্ক সংকেত" হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও), নাসা এবং ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে যে ২০২৩ এবং ২০২৫ সালের তাপমাত্রা প্রায় একই ছিল, পার্থক্য ছিল মাত্র ০.০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট।
ডব্লিউএমও হিসাব করে দেখেছে যে ২০২৫ সালের গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ছিল ৫৯.১৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট, যা প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে ২.৫৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি। এই হিসাবটি আটটি ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞানভিত্তিক দলের ডেটার গড় করে করা হয়েছে। গত তিন বছরে ধারাবাহিকভাবে উচ্চ তাপমাত্রা থাকার কারণে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন যে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সম্ভবত বাড়ছে।
এই ফলাফলগুলো বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা করার জরুরি অবস্থার ওপর জোর দেয়। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা বিভিন্ন পরিবেশগত সমস্যা সৃষ্টি করে, যার মধ্যে রয়েছে ঘন ঘন এবং তীব্র তাপপ্রবাহ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং কৃষি ব্যবস্থায় ব্যাঘাত। এর ফলস্বরূপ বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরনের প্রভাব পড়ছে, কিছু অঞ্চলে অন্যদের চেয়ে বেশি মারাত্মক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। নিচু দেশগুলোর উপকূলীয় অঞ্চলগুলো সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, অন্যদিকে আফ্রিকা ও এশিয়ার কৃষি অঞ্চলগুলো খরা এবং ফসলহানির ঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছে।
গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান মহল ক্রমাগত জোর দিচ্ছে। প্যারিস চুক্তি, একটি যুগান্তকারী আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার লক্ষ্য বৈশ্বিক উষ্ণতাকে প্রাক-শিল্প স্তরের চেয়ে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমাবদ্ধ রাখার প্রচেষ্টা চালানো। তবে, বর্তমান নির্গমন হ্রাসের প্রতিশ্রুতিগুলো এই লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়, যা আরও বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং দ্রুত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
ভবিষ্যতে বিজ্ঞানীরা বৈশ্বিক তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন অব্যাহত রাখবেন। জলবায়ু মডেলগুলোর উন্নতি, জলবায়ু প্রতিক্রিয়া প্রক্রিয়া সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়া বৃদ্ধি এবং অভিযোজন ও প্রশমনের জন্য কৌশল তৈরি করার ওপর মনোযোগ দেওয়া হবে। এই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment