দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসনের মুখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবে ব্যাপকভাবে বিবেচিত পদক্ষেপে ফিলিপাইন এবং জাপান বৃহস্পতিবার ম্যানিলায় দুটি চুক্তি স্বাক্ষর করে ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেছে, যার মধ্যে তাদের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সরবরাহ এবং পরিষেবাগুলির একটি পারস্পরিক বিধান রয়েছে।
ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেরেসা লাজারো এবং জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিতসু মোতেগি চুক্তিগুলো সম্পন্ন করেন, যা দুটি দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। চুক্তিগুলো লজিস্টিক্যাল সহযোগিতা আরও সহজ করবে, যা যৌথ মহড়া এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও মসৃণ করবে।
এই চুক্তিটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন দক্ষিণ চীন সাগরে উত্তেজনা বাড়ছে, যেখানে ফিলিপাইন এবং চীন আঞ্চলিক বিরোধে লিপ্ত। বেইজিং প্রায় পুরো সমুদ্রের দাবি করে, যা ২০১৬ সালে একটি আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাতিল করা হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনা, যার মধ্যে চীনা জাহাজ কর্তৃক ফিলিপাইনের নৌযানকে ধাক্কা দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ রয়েছে, তা সম্পর্ককে আরও কঠিন করে তুলেছে।
জাপান, দক্ষিণ চীন সাগরে কোনো দাবিদার না হলেও, চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, নৌ চলাচলের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে। টোকিও ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়া সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে নিরাপত্তা সম্পর্ক সক্রিয়ভাবে জোরদার করছে।
জাপান ও ফিলিপাইনের মধ্যে গভীরতর নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সাথেও সঙ্গতিপূর্ণ। ওয়াশিংটন তার মিত্র ও অংশীদারদের তাদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং চীনের উত্থানের মুখে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখতে একসাথে কাজ করতে উৎসাহিত করছে। জাপান এর আগে ফিলিপাইনকে টহল বোট ও রেডিও সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে, যা তাদের প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে আরও সুসংহত করেছে। নতুন চুক্তিগুলোর মাধ্যমে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে আরও বেশি আন্তঃকার্যকারিতা ও সমন্বয় সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment