মেসোপটেমিয়া, যা আধুনিক ইরাক, থেকে উদ্ধারকৃত মৃৎশিল্পের ভগ্নাংশগুলো প্রায় ৮,০০০ বছর আগের কাঠামোগত গাণিতিক চিন্তাভাবনার প্রমাণ দেয়, যা পরিচিত প্রাচীনতম লিখিত সংখ্যা থেকেও কয়েক সহস্রাব্দ আগের। ওয়ার্ল্ড প্রিহিস্টরি-তে প্রকাশিতব্য একটি নিবন্ধে এই ভগ্নাংশগুলোর বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে এই অঞ্চলের বাসিন্দারা আনুষ্ঠানিক লিখন পদ্ধতির আবির্ভাবের অনেক আগে থেকেই গণিত সম্পর্কিত অত্যাধুনিক জ্ঞানীয় প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত ছিল।
গবেষণায় জড়িত গবেষক ইয়োসেফ গার্ফিনকেল যুক্তি দেন যে নকশাকৃত মৃৎশিল্প এই সময়ের জন্য পূর্বে অস্বীকৃত বিমূর্ত চিন্তার একটি স্তর নির্দেশ করে। নকশাগুলোর নির্দিষ্ট প্রকৃতি এবং তাদের ধারাবাহিক পুনরাবৃত্তি গাণিতিক নীতির ইচ্ছাকৃত প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়, যদিও এর সঠিক উদ্দেশ্য এখনও অনুমানসাপেক্ষ।
লিখিত সংখ্যার প্রথম দ্ব্যর্থহীন রেকর্ড একই ভৌগোলিক অঞ্চলে প্রায় ৩,৪০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে পাওয়া যায়। এই নতুন প্রমাণ এই অঞ্চলে গাণিতিক যুক্তির সময়কালকে আরও পিছিয়ে দেয়, যা গাণিতিক ধারণার একটি দীর্ঘ এবং আরও ধীরে ধীরে বিকাশের ইঙ্গিত দেয়।
এই আবিষ্কারের তাৎপর্য প্রাথমিক মানব সমাজের জ্ঞানীয় বিকাশের আমাদের বোঝার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে যে জটিল গাণিতিক চিন্তা সম্পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত লিখন ব্যবস্থা সহ স্থিতিশীল কৃষি সমাজের ফসল ছিল। পরিবর্তে, এটি প্রস্তাব করে যে আগের, সম্ভবত যাযাবর বা আধা-যাযাবর গোষ্ঠীগুলিও বিমূর্ত যুক্তি এবং গাণিতিক প্রয়োগে সক্ষম ছিল।
যদিও মৃৎশিল্প বিশ্লেষণের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি প্রদত্ত উৎস উপাদানে বিশদভাবে উল্লেখ করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে এআই-চালিত চিত্র স্বীকৃতি এবং প্যাটার্ন বিশ্লেষণ একটি ভূমিকা পালন করতে পারে। এই প্রযুক্তিগুলি সূক্ষ্ম প্যাটার্ন এবং অসঙ্গতিগুলি সনাক্ত করতে পারে যা মানুষের চোখে ধরা নাও পড়তে পারে, যা প্রাচীন সংস্কৃতিগুলোর গাণিতিক জ্ঞান সম্পর্কে আরও অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে। প্রত্নতত্ত্বে এআই-এর ব্যবহার একটি ক্রমবর্ধমান ক্ষেত্র, যা নিদর্শন বিশ্লেষণ এবং অতীতের সমাজ পুনর্গঠনের জন্য নতুন সরঞ্জাম সরবরাহ করে।
এই গবেষণাটি নতুন প্রযুক্তি এবং তাত্ত্বিক কাঠামোর আলোকে বিদ্যমান প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারগুলোর পুনঃমূল্যায়ন করার গুরুত্ব তুলে ধরে। এই প্রাথমিক মেসোপটেমীয় লোকেরা কী পরিমাণ গাণিতিক জ্ঞানের অধিকারী ছিল এবং কীভাবে এটি তাদের দৈনন্দিন জীবন ও সামাজিক কাঠামোকে প্রভাবিত করেছিল তা নির্ধারণের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। ওয়ার্ল্ড প্রিহিস্টরি-তে আসন্ন প্রকাশনায় এই গবেষণার পদ্ধতি এবং ফলাফল সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment