গাজার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় পর্যায়টি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, মূলত হামাসের নিরস্ত্রীকরণের অস্বীকৃতির কারণে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত একটি শর্ত। এই দ্বিতীয় পর্যায়ের ঘোষণাটি এমন সময়ে এসেছে যখন গাজা উপত্যকা দুই বছরের সংঘাতের পরে ধ্বংসযজ্ঞের সাথে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে সেখানে বসবাসকারী ২১ লক্ষ ফিলিস্তিনির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ বলেছেন যে নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থতা "মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে", তবে হামাস তাদের অস্ত্রকে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক দখলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের জন্য অপরিহার্য মনে করে। এই অবস্থান একটি বড় বাধা তৈরি করেছে, যা সম্ভাব্যভাবে নতুন করে সংঘাতের দিকে পরিচালিত করতে পারে, কারণ ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট সরকারের কিছু সদস্য সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করতে আগ্রহী।
মূল সমস্যাটি নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির উপর আবর্তিত। হামাস তার সশস্ত্র সক্ষমতা বজায় রাখার উপর জোর দেয়, যেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলি সরকারের কিছু অংশ নিরস্ত্রীকরণকে অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার পূর্বশর্ত হিসাবে দেখে। এই ভিন্নতা গভীরভাবে প্রোথিত সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তি আলোচনার জটিলতা তুলে ধরে।
বর্তমান পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক কূটনীতির একটি বৃহত্তর চ্যালেঞ্জকে প্রতিফলিত করে: কীভাবে একটি সংঘাতে জড়িত সকল পক্ষের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সমন্বিত করা যায়। ট্রাম্পের পরিকল্পনার একটি সূচনা বিন্দু হিসাবে নিরস্ত্রীকরণের উপর নির্ভরতা কিছু বিশ্লেষক সমালোচনা করেছেন, যারা যুক্তি দেখান যে এটি সংঘাতকে উস্কে দেওয়া অন্তর্নিহিত অভিযোগগুলি সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে।
সামরিকভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার অনুমান থেকে জানা যায় যে হামাস সম্ভবত গাজায় ইসরায়েলের হাতে নিহত হওয়ার চেয়ে বেশি নতুন সদস্য নিয়োগ করেছে, যা দলটির স্থিতিস্থাপকতা এবং অব্যাহত প্রভাবের ইঙ্গিত দেয়। পরবর্তী পদক্ষেপগুলিতে সম্ভবত আরও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, সম্ভবত অন্যান্য আন্তর্জাতিক অভিনেতা মধ্যস্থতা করবেন, যাতে ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উভয়ের নিরাপত্তা উদ্বেগকে সম্বোধন করা যায় এমন একটি আপস খুঁজে বের করা যায়। দ্বিতীয় পর্যায়ের সাফল্য নির্ভর করছে একটি পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য পথ খুঁজে পাওয়া যায় কিনা, নাকি অঞ্চলটি আরও সহিংসতার দিকে ফিরে যাবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment