স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী লেবাননের বেকা উপত্যকার একটি গ্রামে হামলা চালিয়েছে, যা হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার জন্য সরকারের চাপের মধ্যে বৃহত্তর ইসরায়েলি উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আবিখাই আদরাইয়ের একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে বৃহস্পতিবার এই হামলাটি হয়। পোস্টে সোমরের বাসিন্দাদের তাদের বাড়িঘর থেকে সরে যেতে বলা হয়েছিল, কারণ সেখানে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো রয়েছে এমন একটি ভবনে হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছিল।
পরবর্তীতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায় যে তারা লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহর একাধিক সাইটকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যদিও হামলার সুনির্দিষ্ট স্থানগুলো প্রকাশ করা হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও গোলাগুলির মধ্যে এই হামলাগুলো হয়েছে।
সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এই পরিস্থিতি আরও বাড়ছে। ইসরায়েলি সরকার বারবার হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করার সংকল্প ব্যক্ত করেছে, কারণ তারা দলটির উপস্থিতি ও অস্ত্রাগারকে তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি বড় হুমকি হিসেবে দেখে। হিজবুল্লাহ, একটি শিয়া ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল ও জঙ্গি গোষ্ঠী, লেবাননে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করে এবং ইসরায়েলের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে।
বেকা উপত্যকা, যেখানে সোমোর অবস্থিত, পূর্ব লেবাননের একটি উর্বর কৃষি অঞ্চল। ঐতিহ্যগতভাবে এটি সংঘাতের প্রধান স্থান না হলেও, সীমান্তের নিকটবর্তী হওয়ায় এবং হিজবুল্লাহর উপস্থিতির কারণে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় এটি একটি সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু।
সাম্প্রতিক হামলাগুলো আগের বেশ কয়েকটি ঘটনার ধারাবাহিকতা, যার মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলার খবর এবং উভয় পক্ষে হতাহতের দাবি করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলো লেবাননের জনগণের মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়েছে, অনেকে ২০০৬ সালের বিধ্বংসী লেবানন যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি হওয়ার আশঙ্কা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে উত্তেজনা হ্রাস এবং কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে আঞ্চলিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে, যা লেবানন ও ইসরায়েল উভয়ের জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই অঞ্চলের ঘটনাগুলোর ওপর কড়া নজর রাখছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment