ডাউনিং স্ট্রিট X-এর গ্রোক (Grok) এআই মডেল ব্যবহার করে তৈরি করা ডিপফেক (deepfake) মোকাবিলার পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আসা প্রতিবেদনগুলোর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। পূর্বে এই প্ল্যাটফর্মটি টুইটার নামে পরিচিত ছিল। এআই (AI) দ্বারা তৈরি কন্টেন্ট (content) ব্যবহার করে ভুল তথ্য এবং অপপ্রচার ছড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, সরকার ডিপফেক সম্পর্কিত ঝুঁকি কমাতে যেকোনো প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানায় এবং দায়িত্বশীল এআই উন্নয়ন ও প্রয়োগের ওপর জোর দেয়। মুখপাত্র বলেন, "প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি।" "X এই বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে এমন খবরে আমরা উৎসাহিত।"
"ডিপ লার্নিং" এবং "ফেক"-এর সমন্বয়ে তৈরি ডিপফেক হলো কৃত্রিম মাধ্যম, যেখানে কোনো বিদ্যমান ছবি বা ভিডিওতে থাকা কোনো ব্যক্তির জায়গায় অন্য কারো প্রতিচ্ছবি বসানো হয়। সাধারণত শক্তিশালী এআই কৌশল, যেমন ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মুখের অভিব্যক্তি, কথা বলার ধরণ এবং শারীরিক নড়াচড়া বিশ্লেষণ ও নকল করে এটি করা হয়। এর ফলে তৈরি হওয়া ভিডিওগুলো এতটাই বাস্তবসম্মত হয় যে, সেগুলোকে আসল ভিডিও থেকে আলাদা করা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে ভুল তথ্য ছড়ানো, রাজনৈতিক কারসাজি এবং অনলাইন হয়রানির মতো কাজে এগুলো ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
X-এর এআই মডেল গ্রোক হলো ওপেনএআই-এর জিপিটি (GPT) সিরিজ এবং গুগল-এর জেমিনি-র (Gemini) মতো একটি বৃহৎ ভাষা মডেল (LLM)। এলএলএম (LLM) গুলোকে টেক্সট (text) এবং কোডের (code) বিশাল ডেটাসেটের (dataset) ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, যা তাদেরকে মানুষের মতো মানসম্পন্ন টেক্সট তৈরি করতে, ভাষা অনুবাদ করতে এবং বিস্তৃতভাবে প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম করে। এলএলএম-এর অনেক উপকারী প্রয়োগ থাকলেও, এগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য ডিপফেক তৈরি করতে ব্যবহার করা যেতে পারে, যা এই প্রযুক্তির সাথে সম্পর্কিত ঝুঁকিগুলোকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
গ্রোক-এর মাধ্যমে তৈরি ডিপফেক মোকাবিলায় X কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা এখনও পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে, এর মধ্যে ডিপফেক চিহ্নিত এবং অপসারণ করার জন্য কন্টেন্ট মডারেশন (content moderation) নীতি বাস্তবায়ন, এআই-জেনারেটেড (AI-generated) কন্টেন্ট সনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম তৈরি এবং ডিপফেকের ঝুঁকি সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের শিক্ষিত করা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষক ডঃ এমিলি কার্টার বলেন, "ডিপফেক সনাক্ত করাই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়, বরং এর উৎস খুঁজে বের করাও জরুরি।" "যদি X গ্রোক দ্বারা তৈরি ডিপফেকগুলো চিহ্নিত করতে পারে এবং সেগুলো কারা তৈরি করেছে, তাদের শনাক্ত করতে পারে, তবে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।"
ডিপফেকের উত্থান এআই প্রযুক্তির ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণের দাবি জানিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সরকারগুলো এআই-এর সুবিধা এবং এর সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার জন্য কাজ করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন বর্তমানে এআই অ্যাক্ট (AI Act) নিয়ে কাজ করছে। এটি একটি বিস্তৃত আইন, যা ডিপফেক তৈরি করতে ব্যবহৃত সিস্টেমসহ এআই সিস্টেমগুলোর উন্নয়ন ও প্রয়োগের জন্য নিয়ম তৈরি করবে।
গ্রোক ডিপফেক মোকাবিলায় X এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোম্পানিটি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানাবে। নীতিনির্ধারক, গবেষক এবং সাধারণ মানুষ X-এর প্রচেষ্টার কার্যকারিতার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখবে, কারণ এআই-এর যুগে ডিপফেকের বিরুদ্ধে লড়াই একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে অব্যাহত রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment