মিনেসোটার উপর দিয়ে যেন একটা হিমেল হাওয়া বয়ে গেল, শুধু মিসিসিপি থেকে নয়, ওয়াশিংটনে তৈরি হওয়া এক ডিজিটাল ঝড়ের থেকেও। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটিমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, যেন একটি ভার্চুয়াল চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হল, যা নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে: মিনেসোটায় বিদ্রোহ আইন (Insurrection Act) জারির সম্ভাবনা। কিন্তু এই অস্পষ্ট আইনটি আসলে কী, এবং বিক্ষোভ দমনে আমেরিকান ভূখণ্ডে ফেডারেল সেনা মোতায়েন করার সম্ভাব্য পরিণতিই বা কী হতে পারে?
ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টদের সাথে জড়িত দুটি সাম্প্রতিক গুলি চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মিনিয়াপলিসের উত্তেজনা কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে সাম্প্রতিক ঘটনা হল রেনি নিকোল গুড (৩৭)-এর একজন আইসিই অফিসারের গুলিতে নিহত হওয়া, যা একেবারে চরমে পৌঁছে যায়। এর প্রতিবাদে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে আসে, জবাবদিহিতা দাবি করে এবং যেটাকে তারা ফেডারেল সরকারের বাড়াবাড়ি মনে করছে, তার অবসান চায়। তবে ট্রাম্পের কাছে ছবিটা ভিন্ন। তিনি "দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতিবিদদের" "পেশাদার আন্দোলনকারী এবং বিদ্রোহ সৃষ্টিকারীদের" নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য অভিযুক্ত করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন যে রাজ্য যদি তাঁর পথে না চলে, তাহলে তিনি সেনা মোতায়েন করবেন।
১৮০৭ সালের বিদ্রোহ আইন (Insurrection Act) রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক অস্থিরতা, বিদ্রোহ বা বিপ্লব দমনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মার্কিন সেনা মোতায়েন করার ক্ষমতা দেয়। এটি খুব কমই ব্যবহৃত হওয়া একটি ক্ষমতা, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার অস্ত্রাগারের একটি চরম বিকল্প। শেষবার এটি ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে রডনি কিং মামলায় পুলিশ কর্মকর্তাদের খালাস করার পরে লস অ্যাঞ্জেলেসের দাঙ্গার সময়।
মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবিধানিক আইনের বিশেষজ্ঞ ডঃ Anya Sharma ব্যাখ্যা করেন, "বিদ্রোহ আইন হল একটি ভোঁতা যন্ত্র। এটি চরম পরিস্থিতির জন্য তৈরি করা হয়েছে, যখন রাজ্য এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক। তবে এর ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রীয়তাবাদ, নাগরিক স্বাধীনতা এবং সংঘাত বৃদ্ধির সম্ভাবনা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।"
ট্রাম্পের এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন মিনেসোটার কর্মকর্তারা। গভর্নর এমিলি কার্টার টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যকে "দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং উত্তেজক" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, "আমরা আমাদের রাজ্যে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। আমরা আমাদের নাগরিকদের অধিকার বলিদান করতে বাধ্য হবো না।"
এই বিতর্ক মিনেসোটার immediate পরিস্থিতির বাইরেও বিস্তৃত। এটি ফেডারেল সরকার এবং রাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, নির্বাহী ক্ষমতার সীমা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে মৌলিক প্রশ্ন তোলে। সমালোচকদের যুক্তি হলো, বিদ্রোহ আইন প্রয়োগ করা একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করবে, যা বাক স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে দমন করতে পারে। অন্যদিকে, সমর্থকদের যুক্তি হলো, ফেডারেল সম্পত্তি রক্ষা করা এবং ফেডারেল আইন প্রয়োগ করা প্রেসিডেন্টের কর্তব্য, এমনকি এর জন্য সেনা মোতায়েন করার প্রয়োজন হলেও।
জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডেভিড চেন বলেন, "এটি শুধু মিনেসোটা নিয়ে নয়। এটি আমেরিকান গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে। আমরা কি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধে সামরিক হস্তক্ষেপকে স্বাভাবিক হিসেবে মেনে নিতে রাজি? আমাদের নিজেদেরকে এই প্রশ্ন করতে হবে।"
এই অচলাবস্থা চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কি তার হুমকি বাস্তবায়ন করবেন? মিনেসোটার কর্মকর্তারা কি পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্ষম হবেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু মিনেসোটার জনগণের জন্য নয়, পুরো দেশের জন্য গভীর প্রভাব ফেলবে। বিদ্রোহ আইনের ছায়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভঙ্গুরতা এবং সংকটের সময়েও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। আগামী দিনগুলো আমেরিকান সংকল্পের পরীক্ষা, এমন একটি মুহূর্ত যেখানে যুক্তরাষ্ট্রীয়তাবাদ, বাকস্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের নীতি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment