ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ এড়াতে সৌদি আরব নাকি মার্কিন প্রশাসনের কাছে লবিং করছে, কারণ কাতার ও ওমান ইরানি ও আমেরিকান কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক পথ অনুসরণ করছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, তিনটি উপসাগরীয় দেশ পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ ভেঙে গেছে, যা আসন্ন হামলার উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ইরানের অভ্যন্তরে ব্যাপক বিক্ষোভ উপসাগরীয় দেশগুলো উদ্বেগের সাথে পর্যবেক্ষণ করার মধ্যেই এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছিলেন, যা অনেক উপসাগরীয় শক্তি এই অঞ্চলের জন্য একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।
সৌদি আরবের মার্কিন প্রশাসনের কাছে লবিং করার খবর আঞ্চলিক নিরাপত্তার প্রতি একটি সূক্ষ্ম দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে। ঐতিহাসিকভাবে ইরানের প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, সৌদি আরব একটি সরাসরি সামরিক সংঘাতের ফলে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতার সম্ভাবনাকেও স্বীকার করে। কাতার ও ওমান ঐতিহ্যগতভাবে এই অঞ্চলে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে সংলাপের সুবিধার্থে ব্যবহার করেছে।
বর্তমান উত্তেজনা জটিল ভূ-রাজনৈতিক কারণগুলোর একটি জালের মধ্যে নিহিত, যার মধ্যে রয়েছে ২০১৮ সালে ইরানের পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার এবং নিষেধাজ্ঞার পুনর্বহাল। এই পদক্ষেপগুলো ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্পর্ককে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, যার ফলে উত্তেজনাপূর্ণ বাগাড়ম্বর এবং মাঝে মাঝে এই অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি দেখা যায়। উপসাগরীয় দেশগুলো, ভৌগোলিকভাবে এই দুটি শক্তির মধ্যে অবস্থিত হওয়ায়, যেকোনো সংঘাতের ফলস্বরূপ ক্ষতির জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
সৌদি আরব, কাতার ও ওমানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সামরিক সংঘাত এড়ানোর ক্ষেত্রে অভিন্ন স্বার্থের ওপর জোর দেয়। এই প্রচেষ্টাগুলোর সাফল্য এখনও অনিশ্চিত, তবে এগুলো উত্তেজনা কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আরও উত্তেজনা বৃদ্ধি প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং বৃহত্তর উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার গতিপথ নির্ধারণে আগামী দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment