ফিলিপাইন ২০২৬ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতি সংস্থা (আসিয়ান)-এর চেয়ারের দায়িত্ব এমন এক সময়ে শুরু করেছে, যখন দেশটি একটি বড় দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ও একটি কঠিন বাণিজ্য পরিস্থিতির মতো উল্লেখযোগ্য প্রতিকূলতার সম্মুখীন। এই সমস্যাগুলো ১১ জাতির এই জোটের নেতৃত্বদানকালে প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ "বংবং" মার্কোস জুনিয়রের জন্য তাৎক্ষণিক পরীক্ষা স্বরূপ।
ফিলিপাইনে বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি তহবিলের সাথে জড়িত ২ বিলিয়ন ডলারের দুর্নীতি কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর দেশটির বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পেয়েছে। সরকারি নিরীক্ষকদের মতে, সেপ্টেম্বরে শুরু হওয়া তদন্তে তহবিল অপব্যবহার, রাজনীতিবিদ ও ঠিকাদারদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, নিম্নমানের উপকরণ এবং অস্তিত্বহীন প্রকল্পের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই কেলেঙ্কারি জনরোষ সৃষ্টি করেছে এবং সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুসারে মার্কোসের অনুমোদন rating-এর পতনে অবদান রেখেছে।
এই কেলেঙ্কারির সময়টি মার্কোসের আসিয়ান চেয়ার হিসেবে তার महत्वाकांक्षी পরিকল্পনার সাথে মিলে গেছে, যার মধ্যে এই অঞ্চলের ডিজিটাল অর্থনীতিকে একীভূত করার জন্য একটি প্রস্তাবিত চুক্তিও রয়েছে। তবে, অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো এই আঞ্চলিক উদ্যোগগুলো থেকে মনোযোগ এবং সম্পদ সরিয়ে নিতে পারে।
আগের আসিয়ান চেয়ার মালয়েশিয়া, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অর্থনীতিগুলোর উপর চাপানো শুল্ক এবং থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে একটি সহিংস সীমান্ত সংঘাতের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে লড়াই করে এক কঠিন ২০২৫ সাল পার করেছে। এই প্রেক্ষাপটটি ফিলিপাইন যে জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা তুলে ধরে।
আসিয়ানের চেয়ারের পদটি প্রতি বছর সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পরিবর্তিত হয়, যা প্রতিটি দেশকে জোটের আলোচ্যসূচি এবং অগ্রাধিকারগুলো নির্ধারণের সুযোগ করে দেয়। ডিজিটাল সংহতকরণের উপর ফিলিপাইনের মনোযোগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সংযোগ চালনার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের প্রতিফলন ঘটায়। তবে, এই উদ্যোগের সাফল্য ফিলিপাইনের অভ্যন্তরে দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলোর সমাধানের উপর নির্ভর করবে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন যে, দুর্নীতি কেলেঙ্কারি আসিয়ানের কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে এবং তার নীতি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ফিলিপাইনের ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। ফিলিপাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ডঃ এলিনর মাতেও বলেন, "এই কেলেঙ্কারি সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে এবং সুশাসনের প্রতি তার প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে।" "এর ফলে ফিলিপাইনের পক্ষে আসিয়ানের মধ্যে ঐক্যমত্য তৈরি করা এবং তার অগ্রাধিকারগুলো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।"
দুর্নীতি কেলেঙ্কারির তদন্ত চলছে এবং বেশ কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদার এতে জড়িত। মার্কোস প্রশাসন দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তবে সমালোচকদের দাবি, তদন্তের গতি খুব ধীর এবং চুরি হওয়া তহবিল পুনরুদ্ধারের জন্য আরও বেশি কিছু করা দরকার। ফিলিপাইন এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে পারবে কিনা এবং ২০২৬ সালে কার্যকরভাবে আসিয়ানের নেতৃত্ব দিতে পারবে কিনা, তা নির্ধারণের জন্য আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment