স্কটল্যান্ডের দুগ্ধ খামারিরা একটি গুরুতর আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন কারণ তারা তাদের দুধের জন্য যে দাম পাচ্ছেন তা উৎপাদন খরচের নিচে নেমে গেছে, যা তাদের ব্যবসার টিকে থাকার জন্য হুমকি স্বরূপ।
জনস্টোন পরিবার, যারা দুই বছর আগে দক্ষিণ-পশ্চিম স্কটল্যান্ডে একটি দুগ্ধ খামার অধিগ্রহণ করেছে, তারা এই সংগ্রামের একটি উদাহরণ। তারা এখন ডেইরি জায়ান্ট আর্লা থেকে প্রতি লিটার দুধের জন্য ৩৫.৭ পেন্স পাচ্ছেন, যেখানে তাদের উৎপাদন খরচ প্রতি লিটার ৩৮.৫ পেন্স। প্রতি লিটারে ২.৮ পেন্সের এই ঘাটতি তাদের স্থানীয় গ্রাহকদের কাছে সরাসরি দুধ বিক্রি করা অথবা দুগ্ধ খামার শিল্প থেকে সম্পূর্ণরূপে বেরিয়ে আসার মতো কঠোর পদক্ষেপ বিবেচনা করতে বাধ্য করেছে। জনস্টোনরা আগে বেশ ভালো লাভ করতেন, কিন্তু গত তিন মাসে দুধের দাম ২৫% কমে যাওয়ায় সেই লাভ এখন আর নেই।
ন্যাশনাল ফার্মার্স ইউনিয়ন ফর স্কটল্যান্ড (NFUS) বর্তমান পরিস্থিতিকে দামের পতনের গতি এবং মাত্রার কারণে "নজিরবিহীন" বলে অভিহিত করেছে। আর্লা এই পতনের কারণ হিসেবে দুধের বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত সরবরাহ, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের চাহিদা স্থবির হয়ে যাওয়াকে দায়ী করেছে। এই ভারসাম্যহীনতা এমন একটি বাজার তৈরি করেছে যেখানে সরবরাহ চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি, যার ফলে অনেক কৃষকের জন্য দাম অসহনীয় পর্যায়ে নেমে গেছে।
দুগ্ধ খামার ঐতিহাসিকভাবে দামের ওঠানামার শিকার হয়েছে, তবে বর্তমান সংকট বিশেষভাবে তীব্র। এই শিল্প একটি জটিল বিশ্ব বাজারের মধ্যে কাজ করে যা আবহাওয়ার ধরন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি এবং ভোক্তাদের পছন্দের মতো বিষয়গুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়। আর্লার মতো দুগ্ধ উৎপাদনকারী বড় কোম্পানিগুলো দাম নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে তারা তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরের বাজার শক্তির কাছেও নতি স্বীকার করতে বাধ্য। বর্তমান পরিস্থিতি এই বাহ্যিক চাপের মুখে দুগ্ধ খামারিদের দুর্বলতাকে তুলে ধরে।
সামনের দিকে তাকিয়ে স্কটিশ দুগ্ধ খামারগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। যদি বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত সরবরাহ অব্যাহত থাকে এবং চাহিদা না বাড়ে, তবে অনেক খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা বা অন্যান্য কৃষি পণ্যের দিকে মনোযোগ দেওয়ার মতো বিকল্প কৌশলগুলো কিছু খামারের জন্য জীবনরেখা হতে পারে। তবে, এই বিকল্পগুলোর জন্য উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ এবং পরিবর্তনের প্রয়োজন। স্কটিশ দুগ্ধ শিল্পের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা নির্ভর করে অন্তর্নিহিত বাজারের ভারসাম্যহীনতা মোকাবিলা করা এবং কৃষকরা তাদের দুধের ন্যায্য দাম পান তা নিশ্চিত করার উপায় খুঁজে বের করার ওপর।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment