ইরানি কুর্দিস্তানে ইরাকি সীমান্তে প্রবেশ করা ইরানিরা সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার মধ্যে সরকারের দমন-পীড়নের সময় সহিংসতার শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছেন। বাশমাক সীমান্ত দিয়ে ইরান থেকে আসা ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে, নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি বিবিসিকে জানান যে, আগের শুক্রবার ইরানের কেন্দ্রে একটি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় তার মুখে গুলি করা হয়েছে। তিনি তার মুখের কয়েকটি ফোলা দাগ এবং কালশিটে দেখিয়ে বলেন যে, গুলিটি তার চোখের পাতার উপরে, কপালে এবং গালে লেগেছে।
ইরান সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছে এবং দেশে ফোন কল ব্লক করে দিয়েছে, তবে সীমান্ত খোলা রয়েছে। কয়েক ডজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করতে দেখা গেছে, যাদের মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন যে তারা ইরাকের দিকে তাদের আত্মীয়দের সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন। বিবিসি অনুসারে, সাক্ষাৎকার নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই বিক্ষোভ এবং সরকারের দমন-পীড়নের কারণে ইরান থেকে পালিয়ে আসার কথা বলেননি।
ইরানে অর্থনৈতিক সংকট এবং সামাজিক বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই বিক্ষোভগুলো সংঘটিত হয়েছে। সীমান্ত পার হওয়া ব্যক্তিরা বিক্ষোভের কারণ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য না দিলেও, অতীতে একই ধরনের বিক্ষোভ দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকারত্ব এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাবের কারণে হয়েছে। সরকারের প্রতিক্রিয়া, যার মধ্যে বলপ্রয়োগ এবং যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়া ছিল, ভিন্নমত দমন করার একটি প্রতিফলন।
এই পরিস্থিতি সীমিত ইন্টারনেট অ্যাক্সেস থাকা পরিবেশে তথ্য সংগ্রহ এবং প্রচারের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে। ইরান সরকারের তথ্যের প্রবাহের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় সহিংসতা এবং বিক্ষোভের মাত্রা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। তথ্য নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা বিশ্বব্যাপী ক্রমশ বাড়ছে, যা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্যের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
বাশমাকের সীমান্তটি এখনও খোলা রয়েছে, যা ইরান এবং ইরাকি কুর্দিস্তানের মধ্যে মানুষ ও পণ্যের চলাচলকে স্বাভাবিক রেখেছে। বিক্ষোভ এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতার ওপর কেমন হবে, তা এখনও দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment