ইরানের কর্তৃপক্ষ গত সপ্তাহে ইন্টারনেট ও সেলুলার নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেয়, কিন্তু একদল অ্যাক্টিভিস্ট, ডেভেলপার ও ইঞ্জিনিয়ার স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সিস্টেম ব্যবহার করে এই ডিজিটাল বাধা অতিক্রম করেছে। ডিজিটাল অধিকার গবেষকদের মতে, এই সিস্টেমগুলো চোরাপথে দেশে আনা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে তারা রাস্তায় সৈন্যদের গুলি করার ছবি ও পরিবারগুলোর মৃতদেহ খোঁজার ছবি শেয়ার করতে পেরেছে।
অ্যাক্টিভিস্টদের এই পদক্ষেপের কারণে ইরান সরকার সামরিক-গ্রেডের ইলেকট্রনিক অস্ত্র মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছে। ডিজিটাল অ্যাক্টিভিস্টদের ধারণা, বর্তমানে ইরানে প্রায় ৫০,০০০ স্টারলিংক টার্মিনাল রয়েছে।
স্পেসএক্স দ্বারা পরিচালিত একটি স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নক্ষত্রমণ্ডল স্টারলিংক, প্রত্যন্ত ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদান করে। ইরানে এর ব্যবহার সরকারের সেন্সরশিপ ও নিয়ন্ত্রণকে বাইপাস করার প্রযুক্তির সম্ভাবনাকে তুলে ধরে, যা ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব এবং তথ্যের স্বাধীনতা সম্পর্কে জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে। এই পরিস্থিতি তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টা এবং অবাধ যোগাযোগের জন্য ব্যক্তি বিশেষের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে চলমান উত্তেজনাকেও তুলে ধরে।
ইরানে স্টারলিংকের ব্যবহার প্রমাণ করে যে কীভাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সরকার কর্তৃক আরোপিত ইন্টারনেট বন্ধকে এড়িয়ে যাওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে। যেসব সমাজে তথ্যের অবাধ প্রবাহ সীমিত, সেগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রযুক্তি নাগরিকদের বহির্বিশ্বের সাথে তথ্য আদান প্রদানে এবং প্রতিবাদ সংগঠিত করতে সাহায্য করে, এমনকি যখন প্রচলিত যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বন্ধ থাকে।
ইরান সরকারের ইলেকট্রনিক অস্ত্র মোতায়েন করার পদক্ষেপ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ব্যবহার করে সেন্সরশিপ এড়ানোর প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে রাষ্ট্রগুলোর প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। এটি একটি "ইলেকট্রনিক অস্ত্র প্রতিযোগিতা"-র সম্ভাবনা সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করে, যেখানে সরকার এবং অ্যাক্টিভিস্টরা ক্রমাগত ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণ বা বাইপাস করার জন্য নতুন সরঞ্জাম তৈরি করছে।
ইরানের পরিস্থিতি একটি বিকাশমান ঘটনা। ডিজিটাল অধিকার সংস্থাগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ইন্টারনেট স্বাধীনতার সুরক্ষার জন্য কাজ করছে। ইরানের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ইন্টারনেট গভর্নেন্স নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের উপর স্টারলিংকের ব্যবহারের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনো দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment