শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা করেছে যে তারা আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা কমাতে রাজ্যগুলোর সাথে সহযোগিতা করবে। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানান, তারা দেশের বৃহত্তম গ্রিড অপারেটর পিজেএমকে (PJM) প্রধান প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর সাথে চুক্তি করার জন্য অনুরোধ জানাবেন। এর লক্ষ্য হল, দেশব্যাপী বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়ানোর আর্থিক বোঝা যেন ফেসবুক, গুগল এবং ওপেনএআই (OpenAI)-এর মতো সংস্থাগুলোর ওপর বর্তায়, সাধারণ পরিবারগুলোর ওপর নয়।
বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সেই সাথে দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে সিলিকন ভ্যালির ডেটা সেন্টারগুলোতে বিশাল বিনিয়োগকে দায়ী করা হচ্ছে। এই ডেটা সেন্টারগুলো জটিল অ্যালগরিদম এবং এআই (AI) উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় গণনা প্রক্রিয়াকে সচল রাখতে অপরিহার্য। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (Energy Information Administration) জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় অক্টোবরে বিদ্যুতের গড় বিল ৫ শতাংশ বেড়েছে। এই বৃদ্ধি থেকে বোঝা যায় যে, এআই (AI) উন্নয়নের ফলে বিদ্যমান জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর কতটা চাপ বাড়ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অত্যাধুনিক অ্যালগরিদমের ওপর নির্ভরশীল, যা শিখতে এবং উন্নত হতে প্রচুর ডেটার প্রয়োজন হয়। এই ডেটাগুলো বৃহৎ ডেটা সেন্টারগুলোতে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। সার্ভার, কুলিং সিস্টেম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম চালাতে এই ডেটা সেন্টারগুলোতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। এআই (AI) মডেলগুলো যত জটিল হবে এবং ডেটার পরিমাণ যত বাড়বে, এই ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদাও তত দ্রুত বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পরিকল্পনা হলো, গ্রিড আপগ্রেডের আর্থিক দায়িত্ব এআই (AI) উন্নয়ন থেকে সরাসরি লাভবান হওয়া সংস্থাগুলোর ওপর চাপিয়ে দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন যে, এই ধরনের নিয়মকানুন কার্যকর করতে সময় লাগতে পারে এবং এর ফলে গ্রাহকদের ওপর তাৎক্ষণিক প্রভাব নাও পড়তে পারে। মনিটরিং অ্যানালিটিকস (Monitoring Analytics)-এর প্রেসিডেন্ট জোসেফ বোওরিং (Joseph Bowring) বলেন, "আমি মনে করি এটা ইতিবাচক, তবে এটা কোনো জাদু নয়।" তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন যে, নিয়মকানুন পরিবর্তন করা হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিনিয়োগের সুফল ভোক্তাদের বিলে প্রতিফলিত হতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে।
এখানে চ্যালেঞ্জ হলো, এআই (AI) শিল্পের দ্রুত বিকাশের সাথে সাশ্রয়ী এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখা। এআই (AI) স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন এবং যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করলেও, এর জ্বালানি ব্যবহারের ফলে স্থিতিশীলতা এবং সম্পদের সুষম ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলাফল এখনও অনিশ্চিত, তবে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জ্বালানি বিষয়ক প্রভাব এবং এর সম্ভাব্য সমাধান খোঁজার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment