প্রায় এক দশক পর চীনের মাটিতে পা রাখা প্রথম কানাডীয় নেতা কার্নি এই চুক্তিকে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের পর একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। শি জিনপিং এই চুক্তিকে সম্পর্কের ক্ষেত্রে "মোড় ঘোরানো" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
কানাডা যখন তার বাণিজ্য সম্পর্কগুলোকে বিশেষ করে বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের থেকে সরিয়ে অন্যান্য দেশের দিকে প্রসারিত করতে চাইছে, ঠিক তখনই এই পদক্ষেপটি নেওয়া হলো। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবর্তনশীল শুল্ক নীতির কারণে তৈরি হওয়া বাণিজ্য অনিশ্চয়তার পর এই বহুমুখীকরণের প্রচেষ্টা আরও গতি পায়। এই চুক্তি কানাডায় চীনা বিনিয়োগ বৃদ্ধির পথও প্রশস্ত করতে পারে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীন ও কানাডার মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। বাণিজ্য, মানবাধিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে কানাডায় হুয়াওয়ে (Huawei) -এর নির্বাহী মেং ওয়াংঝুকে আটকের ঘটনা, এর পরে চীনের দুই কানাডীয় নাগরিক মাইকেল কভরিগ ও মাইকেল স্পাভোরকে আটকের ঘটনা—এই সবকিছুই দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতিতে অবদান রেখেছে। মেং ওয়াংঝুর মামলার নিষ্পত্তি এবং দুই কানাডীয় নাগরিকের মুক্তি পাওয়ার ঘটনা সম্পর্কের উন্নতির একটি সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
কানাডীয় ক্যানোলা তেলের উপর শুল্ক হ্রাস কানাডার কৃষি খাতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। চীন ক্যানোলা তেলের একটি প্রধান আমদানিকারক দেশ, এবং উচ্চ শুল্ক কানাডার রপ্তানিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করেছিল। চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ির উপর সবচেয়ে সুবিধাপ্রাপ্ত জাতির হারে কর ধার্যের চুক্তি কানাডার বাজারে তাদের উপস্থিতি প্রসারিত করতে আগ্রহী চীনা নির্মাতাদের জন্য উপকারী হতে পারে।
কিছু বিশ্লেষক এই চুক্তিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন পথ অনুসন্ধানের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন। তবে মানবাধিকার ইস্যু এবং কানাডায় চীনা প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনও রয়ে গেছে। চীন ও কানাডার মধ্যে সামগ্রিক সম্পর্কের উপর এই চুক্তির দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেমন হবে, তা দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment