মিয়ানমার এই সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) তাদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেছে, যেখানে তারা দাবি করেছে যে গাম্বিয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগের সমর্থনে পর্যাপ্ত প্রমাণ সরবরাহ করতে পারেনি। গাম্বিয়ার দায়ের করা এই মামলাটি ২০১৭ সালের সামরিক অভিযানের উপর কেন্দ্র করে, যার ফলে ৭ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশী বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং জাতিসংঘের শীর্ষ আদালতে বিচারকদের বলেন যে গণহত্যার অভিযোগ "ভিত্তিহীন"। তার এই বিবৃতি গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডাউদা জালোর পূর্বে দেওয়া যুক্তির পরে আসে, যেখানে তিনি জোর দিয়ে বলেছিলেন যে মিয়ানমার "গণহত্যা নীতি"র মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের মুছে ফেলতে চেয়েছিল।
রোহিঙ্গারা মুসলিম জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যালঘু, যারা প্রধানত বৌদ্ধ রাষ্ট্র মিয়ানমারে কয়েক দশক ধরে বৈষম্য ও নিপীড়নের শিকার। তাদের নাগরিকত্ব এবং অনেক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, যার ফলে তারা রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালের সামরিক অভিযান, যা মিয়ানমারের দাবি অনুযায়ী জঙ্গি হুমকির লক্ষ্য ছিল, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো কর্তৃক জাতিগত নির্মূল অভিযান হিসেবে ব্যাপকভাবে নিন্দিত হয়েছে।
২০১৮ সালে প্রকাশিত একটি জাতিসংঘের প্রতিবেদনে মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের রাখাইন রাজ্যে গণহত্যার জন্য তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে, যেখানে রোহিঙ্গারা প্রধানত বসবাস করে, এবং অন্যান্য এলাকায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য। মিয়ানমার ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদনের এই निष्कर्षগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছে।
আইসিজে-তে এই মামলাটি রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে alleged নৃশংসতার জন্য মিয়ানমারকে জবাবদিহি করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আদালতের সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক, তবে এর বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। এই কার্যক্রম মিয়ানমারের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, দেশটি ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে, যা বেসামরিক সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। বর্তমান সামরিক জান্তা এই মামলায় আইসিজে-এর এখতিয়ার প্রত্যাখ্যান করেছে। শুনানি আগামী দিনেও চলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে উভয় পক্ষ আরও যুক্তি ও প্রমাণ উপস্থাপন করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment