গবেষণায় দেখা গেছে, নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ মাটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের পুনর্জন্মের গতি দ্বিগুণ করে
ইউনিভার্সিটি অফ লিডসের নতুন গবেষণা অনুসারে, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের মাটিতে পর্যাপ্ত নাইট্রোজেন থাকলে বন উজাড় হওয়ার পরে তা দ্বিগুণ দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে পারে। ২০২৬ সালের ১৫ই জানুয়ারি প্রকাশিত এই গবেষণাটি কয়েক দশক ধরে মধ্য আমেরিকা জুড়ে বনের পুনর্জন্মের ওপর নজর রাখে এবং গাছ ফিরিয়ে আনা ও কার্বন ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে নাইট্রোজেনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা প্রকাশ করে।
গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, প্রাকৃতিক বনায়নে মাটির পুষ্টি উপাদান একটি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে বনের প্লট নিরীক্ষণ করে মাটিতে নাইট্রোজেনের মাত্রা এবং বন পুনর্জন্মের গতির মধ্যে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সম্পর্ক পর্যবেক্ষণ করেছেন। এই ফলাফল থেকে বোঝা যায় যে, প্রকৃতি-ভিত্তিক বনায়ন কৌশল, যা মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতির উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে, তা কেবল সার ব্যবহারের উপর নির্ভর করার চেয়ে বেশি কার্যকর হতে পারে।
গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনের দ্রুত পুনর্জন্ম শুধুমাত্র জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করে না, সেই সাথে বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন গ্রহণের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে, কারণ স্বাস্থ্যকর, দ্রুত বর্ধনশীল বন কার্বনের গুরুত্বপূর্ণ সিঙ্ক হিসাবে কাজ করে। এই গবেষণা কার্বন শোষণের উন্নতি এবং বন উজাড়ের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াগুলোর সুবিধা নেওয়ার সম্ভাবনা তুলে ধরে।
গবেষকরা বনায়নের পরিকল্পনা করার সময় মাটির গঠন বোঝার ওপর জোর দিয়েছেন। নাইট্রোজেন-সমৃদ্ধ মাটিযুক্ত অঞ্চলগুলো চিহ্নিত করে, সংরক্ষণবাদীরা প্রাকৃতিক পুনর্জন্মের জন্য এই স্থানগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে পারে, যা বন পুনরুদ্ধারের গতি এবং কার্যকারিতা সর্বাধিক করে। এই পদ্ধতি অবক্ষয়িত ভূমি পুনরুদ্ধার এবং তাদের পরিবেশগত মূল্য বাড়ানোর জন্য একটি টেকসই ও সাশ্রয়ী উপায় সরবরাহ করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment