হোয়াইট হাউস শুক্রবার ঘোষণা করেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজার সংঘাত নিরসনে তার ২০-দফা পরিকল্পনা তদারকির জন্য "বোর্ড অফ পিস"-এ (Board of Peace) সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারকে (Tony Blair) নিযুক্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের বিবৃতি অনুসারে, ব্লেয়ার ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার (Jared Kushner); মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও (Marco Rubio); এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের (Steve Witkoff) সাথে একজন প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী সদস্য হিসাবে কাজ করবেন।
বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন অ্যাপোলো গ্লোবাল ম্যানেজমেন্টের (Apollo Global Management) সিইও মার্ক রোয়ান (Marc Rowan); বিশ্বব্যাংক গ্রুপের (World Bank Group) প্রেসিডেন্ট অজয় বানগা (Ajay Banga); এবং রবার্ট গ্যাব্র (Robert Gabr)। ইসরায়েল কর্তৃক "গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যামূলক যুদ্ধ" হিসাবে যুক্তরাষ্ট্র যা বর্ণনা করেছে, তা বন্ধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টার মধ্যেই এই বোর্ড গঠন করা হলো।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তার ভূমিকা এবং ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনসহ যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন "সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে" তার বহুল সমালোচিত সমর্থনের কারণে ব্লেয়ারের নিয়োগ ইতোমধ্যেই সমালোচিত হয়েছে। সমালোচকদের যুক্তি হলো, ব্লেয়ারের অতীতের কর্ম ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের একজন নিরপেক্ষ শান্তিরক্ষী হিসাবে তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে দুর্বল করে।
"বোর্ড অফ পিস" উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান ভূমিকাকে তুলে ধরে। দ্বন্দ্বের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে এবং সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ তৈরি করতে এআই অ্যালগরিদমগুলি সামাজিক মাধ্যমের প্রবণতা, সংবাদ প্রতিবেদন এবং অর্থনৈতিক সূচকসহ বিপুল পরিমাণ ডেটা বিশ্লেষণ করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এই ডেটা-চালিত পদ্ধতির লক্ষ্য হলো নীতিনির্ধারকদের আরও ভালোভাবে তথ্য সরবরাহ করা এবং সম্ভবত আরও কার্যকর শান্তি আলোচনা করা। তবে, এআই অ্যালগরিদমের মধ্যে পক্ষপাতিত্বের সম্ভাবনা এবং তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে নৈতিক উদ্বেগ দেখা দেয়।
শান্তি আলোচনায় এআই-এর ব্যবহার জবাবদিহিতা সম্পর্কেও প্রশ্ন তোলে। যদি কোনও এআই-চালিত কৌশল ব্যর্থ হয়, তবে এর জন্য কে দায়ী? অ্যালগরিদমের নির্মাতারা? নাকি এটি বাস্তবায়নকারী নীতিনির্ধারকেরা? এগুলো জটিল প্রশ্ন, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এআই আরও বেশি সংহত হওয়ার সাথে সাথে সতর্কতার সাথে বিবেচনা করা দরকার।
কুশনারের নিয়োগ, যিনি এর আগে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে একজন সিনিয়র উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেছেন, সেটিও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। কুশনারের পরিবারের ইসরায়েলের সাথে উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বোর্ড অফ পিস-এর প্রথম সভা আগামী মাসে ওয়াশিংটন, ডিসিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আলোচ্যসূচিতে মানবিক সহায়তা, পুনর্গঠন প্রচেষ্টা এবং গাজার জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বোর্ডের সাফল্য নির্ভর করবে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবেলা করার এবং জড়িত সকল পক্ষের মধ্যে আস্থা তৈরি করার ক্ষমতার ওপর।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment