সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, মীরা মুরাতির থিংকিং মেশিনস ল্যাবের নেতারা গত গ্রীষ্মে স্টার্টআপের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রাক্তন সিটিও ব্যারেট জোফকে অন্য এক কর্মীর সাথে কথিত সম্পর্ক নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে এই সম্পর্কটিই পূর্বে ওয়্যার্ড (WIRED) এবং অন্যান্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অসদাচরণ। জড়িতদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য, অন্য বিভাগের নেতৃত্ব পদে থাকা এবং বর্তমানে ল্যাবের সাথে যুক্ত নন এমন কর্মীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র আরও জানায়, মুরাতি নিজে জোফের কাছে এই সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়েছিলেন। এরপর কয়েক মাসে সহ-প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে কাজের সম্পর্ক খারাপ হয়ে যায়, যার ফলে জোফ প্রতিযোগীদের সাথে কাজ করার সুযোগ খুঁজতে শুরু করেন। থিংকিং মেশিনস থেকে চলে যাওয়ার আগে, জোফ মেটা সুপার ইন্টেলিজেন্স ল্যাবসের নেতাদের সাথে আলোচনা করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি ওপেনএআই (OpenAI)-এ যোগদান করেন।
ওপেনএআই-এর অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ক সিইও ফিজি সিমো জানান, জোফের নিয়োগ প্রক্রিয়া কয়েক সপ্তাহ ধরে চলছিল। সিমো আরও উল্লেখ করেন যে জোফের নৈতিকতা নিয়ে থিংকিং মেশিনসের উদ্বেগের বিষয়ে তিনি অবগত ছিলেন না। জোফ এবং ওপেনএআই কেউই মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধের জবাব দেননি।
থিংকিং মেশিনসের এই ঘটনা কর্মক্ষেত্রে সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান কঠোর নিরীক্ষণের বিষয়টিকে তুলে ধরে, বিশেষ করে যেখানে ক্ষমতার প্রভাব বিদ্যমান, এবং এটি বিশ্বব্যাপী প্রযুক্তি শিল্পের একটি আলোচ্য বিষয়। এই ধরনের ঘটনা প্রায়শই জটিল নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি করে, যা বিভিন্ন দেশের আইন এবং সংস্কৃতির ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে। কিছু দেশে, কর্মক্ষেত্রে প্রেমের সম্পর্ক সাধারণত সহনীয় হিসেবে বিবেচিত হয়, যতক্ষণ না তা পারস্পরিক সম্মতিতে হয় এবং কোনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি না করে। তবে, অন্য দেশে, বিশেষ করে যেখানে কর্পোরেট শাসনের মান কঠোর, এই ধরনের সম্পর্ককে কোম্পানির নীতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হয় এবং এর ফলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে, বিশেষ করে যখন ঊর্ধ্বতন-অধস্তন সম্পর্ক বিদ্যমান থাকে।
থিংকিং মেশিনস থেকে জোফের প্রস্থান এবং পরবর্তীতে ওপেনএআই কর্তৃক তার নিয়োগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে প্রতিভার জন্য তীব্র প্রতিযোগিতার বিষয়টিকেও তুলে ধরে। যেহেতু এআই (AI)-এর উন্নয়ন বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে, তাই কোম্পানিগুলো শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার জন্য প্রতিযোগিতা করছে, কখনও কখনও এক্ষেত্রে সম্ভাব্য নৈতিক উদ্বেগকে উপেক্ষা করা হচ্ছে। এই প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি নৈতিক মান বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল কর্পোরেট আচরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি কঠিন পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এই ঘটনাটি সুস্পষ্ট এবং ধারাবাহিকভাবে প্রয়োগযোগ্য কর্মক্ষেত্র নীতিমালার গুরুত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, সেইসাথে অন্য সংস্থা থেকে বিশেষ করে সংবেদনশীল নেতৃত্ব পদে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন করার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment