ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা মিনিয়াপলিসে আকস্মিকভাবে অভিযান চালাচ্ছে, যার ফলে বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় এবং প্রতিরোধ বাড়ছে। চলমান এই অভিযানে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্মকর্তারা লোকজনকে থামাচ্ছে, জিজ্ঞাসাবাদ করছে এবং লোকজনকে আটক করছে, যার মধ্যে কিছু রিপোর্ট অনুসারে, মার্কিন নাগরিকও রয়েছে।
ICE-এর উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় কিছু এলাকাকে বাসিন্দারা কার্যত ‘জোরপূর্বক বলবৎ করার অঞ্চল’-এ পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন। এনপিআর-এর সার্জিও মার্টিনেজ-বেলট্রান মুখোশধারী ICE কর্মকর্তাদের ফুটপাতে লোকজনকে আটক করা, গাড়ি থামানো এবং পরিচয়পত্র দাবি করার ঘটনার সাক্ষী থাকার কথা জানিয়েছেন। এই অভিযানে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন, কারণ তারা মনে করছেন তাদের শহর অবরুদ্ধ।
মিনিয়াপলিসে ICE-এর কার্যকলাপ বৃদ্ধি বিভিন্ন দেশে ক্রমবর্ধমান অভিবাসন প্রয়োগের একটি বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতাকে প্রতিফলিত করে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপে হাঙ্গেরি এবং পোল্যান্ডের মতো দেশগুলি কঠোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের উপর নজরদারি বাড়িয়েছে। একইভাবে, অস্ট্রেলিয়া আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অফশোর ডিটেনশন নীতির জন্য আন্তর্জাতিক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। মিনিয়াপলিসের ICE অভিযানের মতো এই নীতিগুলি প্রায়শই মানবাধিকার এবং যথাযথ প্রক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে এই বর্ধিত প্রয়োগমূলক পদক্ষেপগুলি এসেছে। বর্তমান প্রশাসন অভিবাসন আইনের কঠোর প্রয়োগের উপর জোর দিয়েছে, যার ফলে নির্বাসন বেড়েছে এবং সীমান্ত সুরক্ষার উপর বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। এই পদ্ধতিটি কানাডার মতো কিছু দেশের নীতির বিপরীতে, যারা দক্ষ অভিবাসীদের আকৃষ্ট করতে এবং শ্রমিকের ঘাটতি মোকাবেলায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।
মিনিয়াপলিসের পরিস্থিতি জাতীয় অভিবাসন নীতি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের মূল্যবোধের মধ্যে উত্তেজনা তুলে ধরে। অনেক বাসিন্দা ICE অভিযানের সক্রিয়ভাবে বিরোধিতা করছেন, বিক্ষোভের আয়োজন করছেন এবং যারা প্রয়োগমূলক পদক্ষেপের শিকার হচ্ছেন তাদের সহায়তা প্রদান করছেন। এই প্রতিরোধ বিশ্বজুড়ে অনুরূপ আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি, যেখানে সম্প্রদায়গুলি অভিবাসী এবং শরণার্থীদের অধিকার রক্ষায় সংগঠিত হচ্ছে।
মিনিয়াপলিস সম্প্রদায়ের উপর ICE অভিযানের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এখনও দেখার বাকি। অভিযান চলছে, এবং এটি কতদিন চলবে তা স্পষ্ট নয়। এই পরিস্থিতি সম্ভবত অভিবাসন নীতি এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারীর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে তুলবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment