নাসার মঙ্গল গ্রহ থেকে পাথরের নমুনা পৃথিবীতে আনার পরিকল্পনা বাতিল করা হয়েছে, যা গ্রহ বিজ্ঞান এর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের ১৬ই জানুয়ারীর নেচার ব্রিফিং পডকাস্টে এই পরিবর্তনের বিস্তারিত জানানো হয়েছে, যার মানে হলো কিছু বিশেষ বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ যা শুধুমাত্র পৃথিবীতে করা সম্ভব ছিল, তা এখন আর করা যাবে না। পডকাস্টে অনেক কুকুরের প্রজাতির ঝুলে যাওয়া কানের জেনেটিক ভিত্তি নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
মঙ্গল গ্রহের নমুনা বিষয়ক এই সিদ্ধান্তটি বাজেট সংকট এবং পরিবর্তিত মিশনের অগ্রাধিকারের কারণে নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞানীরা মঙ্গলের পাথরগুলোতে অতীতের বা বর্তমানের জীবনের চিহ্ন বিশ্লেষণ করতে চেয়েছিলেন, সেইসাথে গ্রহটির ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে আরও গভীর ধারণা পেতে চেয়েছিলেন। পডকাস্টের সাথে সম্পর্কিত নেচার আর্টিকেলের মতে, নমুনাগুলো পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনতে না পারা অমূল্য বৈজ্ঞানিক তথ্যের ক্ষতি। বেশ কয়েক বছর ধরে রোভার দ্বারা সংগৃহীত নমুনাগুলো মঙ্গলের মূল প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার সম্ভাবনার জন্য সতর্কতার সাথে নির্বাচন করা হয়েছিল।
অন্য একটি অংশে, পডকাস্টটি কুকুরের ঝুলে যাওয়া কানের পেছনের জেনেটিক্স নিয়ে আলোচনা করেছে। নেচারে প্রকাশিত গবেষণা থেকে জানা যায় যে, ঝুলে যাওয়া কানের ফেনোটাইপের জন্য দায়ী নির্দিষ্ট জিন সনাক্ত করা হয়েছে। এই গবেষণাটি গৃহপালিতকরণ প্রক্রিয়া এবং কীভাবে নির্বাচনী প্রজনন কুকুরের শারীরিক বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন করেছে তার উপর আলোকপাত করে। এই গবেষণাটি গৃহপালিত প্রাণীদের বৈশিষ্ট্যের বিবর্তন বুঝতে জেনেটিক বিশ্লেষণের ক্ষমতার উপর জোর দেয়।
নাসার এই সিদ্ধান্তের প্রভাব তাৎক্ষণিক বৈজ্ঞানিক সুযোগ হারানোর বাইরেও বিস্তৃত। এটি গ্রহ অনুসন্ধানের ভবিষ্যৎ এবং উচ্চাভিলাষী বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য এবং বাস্তব সীমাবদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন তোলে। অন্যান্য গ্রহ থেকে নমুনা ফিরিয়ে আনার খরচ এবং জটিলতা অনেক বেশি, এবং নাসার সংশোধিত পদ্ধতি আরও সুনির্দিষ্ট এবং সাশ্রয়ী মিশনের দিকে ইঙ্গিত দিতে পারে।
অন্যদিকে, কুকুরের কানের জেনেটিক্সের গবেষণা জেনেটিক গবেষণার ক্রমবর্ধমান পরিশীলিততা এবং প্রাণীজগতের বিবর্তনের রহস্য উন্মোচন করার ক্ষমতা প্রদর্শন করে। এই ধরণের গবেষণা শুধুমাত্র কুকুরের ইতিহাস নয়, অন্যান্য প্রজাতি, এমনকি মানুষসহ অন্যান্য প্রজাতির বৈশিষ্ট্যের জেনেটিক ভিত্তি বুঝতেও সাহায্য করে।
জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত, নাসা বাজেট সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে বৈজ্ঞানিক রিটার্ন সর্বাধিক করার লক্ষ্যে মঙ্গল গ্রহের অনুসন্ধান কৌশলটি পুনরায় মূল্যায়ন করছে। ভবিষ্যতের মিশনগুলো ইন-সিটু বিশ্লেষণ এবং রিমোট সেন্সিং কৌশলকে অগ্রাধিকার দিতে পারে। কুকুরের কানের জেনেটিক গবেষণা চলমান রয়েছে, বিজ্ঞানীরা কানের আকার এবং আকৃতি নির্ধারণ করে এমন জিনের জটিল আন্তঃক্রিয়া নিয়ে আরও অনুসন্ধান করছেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment