রাষ্ট্রীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের মতে, ইয়োয়েরি মুসেভেনি ৭০% এর বেশি ভোট পেয়ে উগান্ডার রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁর সপ্তম মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন। এই ঘোষণার আগে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ, সঙ্গীতশিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ববি ওয়াইন জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন।
ওয়াইন ফলাফলকে "ভুয়া" বলে নিন্দা করেছেন এবং পোলিং স্টাফদের অপহরণ সহ অসংখ্য নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ করেছেন। তিনি সঠিক ফলাফল প্রকাশের দাবিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াইন আরও বলেছিলেন যে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে তিনি তার বাড়ি থেকে পালিয়ে এসেছেন, তাঁর দল দাবি করেছে যে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যদিও এটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
৪০ বছর ধরে রাষ্ট্রপতি থাকা মুসেভেনি এখন বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম মেয়াদী অ-রাজকীয় জাতীয় নেতা। মিডিয়া এবং বিরোধী দলের প্রচারণার উপর বিধিনিষেধ আরোপের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উদ্বেগের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সরকার নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ভুল তথ্যের বিস্তার রোধের প্রয়োজনীয়তাকে ইন্টারনেট বন্ধ করার কারণ হিসাবে উল্লেখ করেছে।
নির্বাচনের ফলাফল মুসেভেনির দীর্ঘদিনের শাসনের ধারাবাহিকতাকে প্রতিফলিত করে, যা আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দ্বারা চিহ্নিত, তবে মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। মুসেভেনির সমর্থকরা তাকে বহু বছরের সংঘাতের পর উগান্ডায় শান্তি ও উন্নয়ন আনার কৃতিত্ব দেন। তবে সমালোচকরা তাকে স্বৈরাচারী এবং ভিন্নমত দমনের অভিযোগ করেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনের পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জালিয়াতি ও অনিয়মের অভিযোগের তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। উগান্ডার সরকার নির্বাচনের অখণ্ডতা রক্ষা করেছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি এখনও উত্তেজনাপূর্ণ, আরও বিক্ষোভ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার সম্ভাবনা রয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপগুলিতে সম্ভবত নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের কাছ থেকে অব্যাহত পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment