গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা বড় ধরনের অর্থনৈতিক বাধার সম্মুখীন। বিশ্লেষকদের মতে, এর সম্ভাব্য মূল্য দুই দশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। শিল্প এবং ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এই অধিগ্রহণ কাগজে-কলমে গ্রীনল্যান্ডের সম্ভাব্য প্রাকৃতিক সম্পদ এবং কৌশলগত সামরিক অবস্থানের কারণে আকর্ষণীয় মনে হলেও এর পেছনে তেমন জোরালো ব্যবসায়িক যুক্তি নেই।
গ্রীনল্যান্ডের অর্থনীতির উন্নয়নে আর্থিক চাপ যথেষ্ট বেশি হবে। ১ ট্রিলিয়ন ডলারের এই হিসেবে অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মীবাহিনী বৃদ্ধি এবং প্রতিকূল পরিবেশে সম্পদ উত্তোলনের খরচ অন্তর্ভুক্ত। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের আর্কটিক বিষয়ক সহযোগী ফেলো অটো সভেন্ডসেন উল্লেখ করেছেন যে, গ্রীনল্যান্ডের critical minerals বা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং অপরিশোধিত তেলসহ অন্যান্য সম্পদ উত্তোলন করা অন্যান্য স্থান থেকে, এমনকি কন্টিনেন্টাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের থেকেও বেশি ব্যয়বহুল হবে।
গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের বাজার প্রভাব সীমিত হবে, কারণ দ্বীপটি ইতিমধ্যেই মার্কিন বিনিয়োগ এবং সামরিক সম্প্রসারণের জন্য উন্মুক্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিগ্রহণের পেছনের অর্থনৈতিক যুক্তি ত্রুটিপূর্ণ, কারণ সম্ভাব্য সুবিধাগুলো প্রয়োজনীয় বিশাল আর্থিক বিনিয়োগের ন্যায্যতা দেয় না। এই অধিগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে লুইজিয়ানা ক্রয়ের চেয়েও বড় ভৌগোলিক অধিগ্রহণ হবে, কিন্তু এই অঞ্চল এবং এর সম্পদ বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা অর্থনৈতিক যুক্তিকে অর্থহীন বলে মনে করেন।
গ্রীনল্যান্ডকে পাওয়ার চেষ্টা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের রিয়েল এস্টেট ডেভেলপার হিসেবে বেড়ে ওঠার প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে বড় সম্পত্তি অধিগ্রহণকে প্রায়শই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়। তবে, গ্রীনল্যান্ডের মতো একটি জটিল ভূ-রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা কঠিন।
ভবিষ্যতে, দুর্বল ব্যবসায়িক যুক্তি এবং জড়িত বিশাল আর্থিক ও লজিস্টিক্যাল বাধার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা কম। মনোযোগ সম্ভবত বিদ্যমান অংশীদারিত্ব জোরদার করা এবং আর্কটিক অঞ্চলে সম্পদ উন্নয়ন ও কৌশলগত সহযোগিতার জন্য আরও অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর সুযোগ অনুসন্ধানের দিকে যেতে পারে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment