সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সরকারের দমন-পীড়ন এবং মার্কিন হস্তক্ষেপের হুমকিতে ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্র এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যা এর দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আধুনিক ইরান, তেল এবং মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির ইতিহাসবিদ এবং ইউরেশিয়া গ্রুপের একজন সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু-এর মতে, ইরানি সরকারের বর্তমান গতিপথ টেকসই নয়। ব্রু সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে বলেছেন যে, উল্লেখযোগ্য সংস্কার ছাড়া, এই শাসন ধীরে ধীরে অর্থনৈতিকভাবে ভেঙে পড়বে এবং বলপ্রয়োগের উপর নির্ভরতা বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত এর পতনের দিকে নিয়ে যাবে।
কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া বিক্ষোভের সূত্রপাত অর্থনৈতিক অবস্থা এবং রাজনৈতিক বিধিনিষেধের উপর ব্যাপক অসন্তোষ থেকে। সরকার কঠোর হাতে এর জবাব দিয়েছে, যার ফলে বিক্ষোভকারীদের সাথে সংঘর্ষ এবং অসংখ্য গ্রেপ্তার হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এই দমন-পীড়নের নিন্দা জানিয়েছে এবং সহিংসতা অব্যাহত থাকলে আরও পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে।
অস্থিরতার কারণে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে, কিছু বিক্ষোভকারী ইরানের প্রাক্তন শাহের নির্বাসিত পুত্র রেজা পাহলভির প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাহলভি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে বর্তমান সরকার ভেঙে গেলে তিনি নেতৃত্ব দিতে ইচ্ছুক।
তবে পরিস্থিতি এখনও জটিল। বিক্ষোভগুলো শাসনের দুর্বলতা তুলে ধরলেও, এটি এখনও তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অনুগত সমর্থকদের মাধ্যমে ক্ষমতার উপর শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে। তাছাড়া, বিরোধীদের মধ্যে বিভাজন এবং একটি স্পষ্ট বিকল্প নেতার অভাব সফল পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলেছে।
ব্রু মনে করেন যে, ইরানের সরকারের কাছে এমন সংস্কার বাস্তবায়নের জন্য সীমিত সুযোগ থাকতে পারে যা অন্তর্নিহিত অভিযোগগুলোর সমাধান করতে এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে পারে। তিনি যুক্তি দেন যে স্বৈরাচারী সরকারগুলোও মাঝে মাঝে সংস্কার করতে সক্ষম। তবে, তিনি সতর্ক করে বলেন যে জনগণের আস্থা ফিরে পেতে হলে যেকোনো সংস্কারকে যথেষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে।
ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগামী মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভের প্রতি শাসনের প্রতিক্রিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এবং বিরোধীদের একত্রিত হওয়ার ক্ষমতা - সবকিছুই দেশটির ভাগ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং সংস্কার ও আরও অবনতির সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment