গ্রীনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রির জন্য চাপ দিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শনিবার বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের উপর নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। একটি সামাজিক মাধ্যম পোস্টে বিস্তারিতভাবে জানানো হয়েছে, এই শুল্ক ডেনমার্ক (যারা বর্তমানে গ্রীনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করে) এবং অন্যান্য কয়েকটি ইউরোপীয় দেশকে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে।
প্রেসিডেন্টের পোস্ট অনুসারে, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডেনমার্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা সমস্ত পণ্যের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হবে। একই শুল্ক নরওয়ে, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন, নেদারল্যান্ডস এবং ফিনল্যান্ডের উপরও প্রযোজ্য হবে। এই দেশগুলো ন্যাটোর সদস্য এবং ডেনমার্কের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন যে, যদি এই দেশগুলো আলোচনায় রাজি না হয়, তাহলে ১ জুন থেকে শুল্কের হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে এবং এটি "গ্রীনল্যান্ডের সম্পূর্ণ এবং সামগ্রিক ক্রয় সংক্রান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত" বহাল থাকবে।
এই ঘোষণার ফলে ইউরোপীয় নেতা এবং কিছু রিপাবলিকানসহ মার্কিন আইন প্রণেতাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক এবং ব্যাপক নিন্দা জানানো হয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই শুল্ক একটি জোরপূর্বক কৌশল যা আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে দুর্বল করে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্প্রতি হওয়া একটি বাণিজ্য চুক্তিকে বিপন্ন করতে পারে।
গ্রীনল্যান্ড, পৃথিবীর বৃহত্তম দ্বীপ, ডেনমার্ক রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র গ্রীনল্যান্ড কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে ১৯৪৬ সালে। কিন্তু ডেনমার্ক বরাবরই এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। বর্তমানের এই অচলাবস্থা গ্রীনল্যান্ডের কৌশলগত গুরুত্বের উপর আলোকপাত করে, বিশেষ করে এর আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমশ সহজলভ্য হয়ে উঠছে।
এই শুল্কের প্রভাব বাণিজ্য এবং কূটনীতির বাইরেও বিস্তৃত। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ভূ-রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অর্থনৈতিক চাপ ব্যবহারের একটি নজির স্থাপন করতে পারে, যা সম্ভবত আন্তর্জাতিক নিয়ম ও জোটকে অস্থিতিশীল করে তুলবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, এবং এটা স্পষ্ট নয় যে, লক্ষ্যবস্তু হওয়া দেশগুলো এই পরিস্থিতিতে আলোচনায় বসতে রাজি হবে কিনা। হোয়াইট হাউস এখনও পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment