বাতাসে চাপা উত্তেজনা। একটি সাধারণ সাক্ষাৎকার, যার উদ্দেশ্য ছিল আমেরিকান জনসাধারণকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অফিসের প্রথম দিকের দিনগুলো সম্পর্কে একটি ঝলক দেওয়া, সেটি একটি উচ্চ-ঝুঁকির অচলাবস্থায় পরিণত হয়েছে। সিবিএস নিউজ, "ইভনিং নিউজ"-এর জন্য প্রেসিডেন্টের একটি আকাঙ্ক্ষিত সাক্ষাৎকার নিশ্চিত করার পরপরই, অপ্রত্যাশিত একটি চরমপত্রের সম্মুখীন হয়েছে: সাক্ষাৎকারটি সম্পূর্ণ, সম্পাদনাবিহীনভাবে প্রচার করতে হবে, অন্যথায় হোয়াইট হাউস থেকে আইনি পদক্ষেপের সম্মুখীন হতে হবে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট কর্তৃক কথিত এই হুমকি, তাৎক্ষণিক তথ্য এবং এআই-চালিত মিডিয়া কারসাজির যুগে আখ্যান নিয়ন্ত্রণের ক্রমবর্ধমান যুদ্ধকে তুলে ধরে। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের মতে, লিভিট कथितভাবে অ্যাংকর টনি ডকুপিল এবং নির্বাহী প্রযোজক কিম হার্ভেকে বলেছিলেন, "তিনি বলেছেন, 'নিশ্চিত করুন যে আপনারা টেপ কাটবেন না, নিশ্চিত করুন যে সাক্ষাৎকারটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়েছে।" তিনি বলেছিলেন, 'যদি এটি সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত না হয়, তবে আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে মামলা করব।"
এই ঘটনাটি মিডিয়া ল্যান্ডস্কেপে একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে তুলে ধরে: এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবতা বিকৃত করার সম্ভাবনা এবং এমন একটি যুগে সাংবাদিকতার অখণ্ডতা বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ, যেখানে ডিপফেক এবং কারসাজি করা অডিও সহজেই সত্য এবং মিথ্যার মধ্যেকার সীমারেখা অস্পষ্ট করতে পারে। একটি সম্পাদনাবিহীন সাক্ষাৎকারের দাবি, আপাতদৃষ্টিতে স্বচ্ছ মনে হলেও, ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিকতার যাচাই-বাছাইকে বাইপাস করার জন্য ফিল্টারবিহীন কন্টেন্টের কৌশলগত ব্যবহার সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে।
অত্যাধুনিক এআই অ্যালগরিদম দ্বারা চালিত, বিশ্বাসযোগ্য নকল ভিডিও এবং অডিও রেকর্ডিং তৈরি করার ক্ষমতা জনগনের আস্থার জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি। বিনোদন এবং সৃজনশীল ক্ষেত্রগুলোতে উত্তেজনাপূর্ণ সম্ভাবনা সরবরাহ করার পাশাপাশি, এই প্রযুক্তিগুলো ভুল তথ্য ছড়ানো এবং খ্যাতি নষ্ট করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। কল্পনা করুন একজন রাজনীতিবিদ এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন যা আসলে কখনও দেননি, অথবা জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য একটি জাল অডিও রেকর্ডিং ব্যবহার করা হচ্ছে - এমন একটি এআই-নির্মিত ভিডিও। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী।
ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির এআই এথিক্সের একজন শীর্ষস্থানীয় গবেষক ডঃ অন্যা শর্মা ব্যাখ্যা করেন, "সংবাদ সংস্থাগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এমন শক্তিশালী যাচাইকরণ পদ্ধতি তৈরি করা যা এআই-উত্পাদিত কন্টেন্ট সনাক্ত করতে পারে এবং তাদের রিপোর্টিংয়ের যথার্থতা নিশ্চিত করতে পারে।" "এর জন্য অডিও এবং ভিডিও ফাইলের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ, একাধিক উৎসের সাথে তথ্যের ক্রস-রেফারেন্সিং এবং রিপোর্টিংয়ে স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতিসহ একটি বহুমাত্রিক পদ্ধতির প্রয়োজন।"
হোয়াইট হাউসের দাবি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার মূল নীতিগুলোর ওপরও আলোকপাত করে। ঐতিহ্যগতভাবে, সংবাদ সংস্থাগুলোর তাদের কন্টেন্টকে আকার দেওয়ার, যথার্থতা, ন্যায্যতা এবং প্রেক্ষাপট নিশ্চিত করার জন্য সম্পাদকীয় বিচক্ষণতা রয়েছে। এই সম্পাদকীয় বিচার প্রয়োগের জন্য মামলার হুমকি সংবাদ সংগ্রহের প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য সরকারি হস্তক্ষেপ সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
প্রবীণ নিউজ এডিটর মার্ক জনসন বলেন, "একজন সাংবাদিকের ভূমিকা হলো জনসাধারণকে এমন তথ্য সরবরাহ করা যা নির্ভুল, ন্যায্য এবং প্রাসঙ্গিক।" "এর জন্য সাংবাদিকতার মান পূরণ করে তা নিশ্চিত করার জন্য কন্টেন্ট সম্পাদনা এবং কিউরেট করার ক্ষমতা প্রয়োজন। এই প্রক্রিয়াটিকে পাশ কাটানোর যেকোনো প্রচেষ্টা সংবাদের অখণ্ডতাকে দুর্বল করে।"
ভবিষ্যতের দিকে তাকালে, মিডিয়া শিল্পকে এআই দ্বারা সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জগুলোর সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে এআই সনাক্তকরণ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ, সংবাদ উৎপাদনে এআই ব্যবহারের জন্য নৈতিক নির্দেশিকা তৈরি করা এবং এআই-চালিত ভুল তথ্যের সম্ভাবনা সম্পর্কে জনসাধারণকে শিক্ষিত করা। সিবিএস নিউজ জড়িত ঘটনাটি সতর্কতা অবলম্বনের গুরুত্ব এবং ডিজিটাল যুগে সাংবাদিকতার নীতিগুলোর প্রতি নতুন করে অঙ্গীকারের প্রয়োজনীয়তার একটি স্পষ্ট অনুস্মারক হিসেবে কাজ করে। সংবাদের ভবিষ্যৎ এর ওপর নির্ভরশীল।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment