ইরান সরকারের ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার কারণে বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন কতখানি হয়েছে, তা পুরোপুরিভাবে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মীদের বার্তা সংস্থা (Human Rights Activists News Agency) অনুসারে, ১৮,০০০-এর বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অনুমান করা হচ্ছে কমপক্ষে ২,৬০০ জন মারা গেছে, যেখানে কিছু পরিসংখ্যানে এই সংখ্যা ২০,০০০-এর বেশি। স্টারলিংক টার্মিনালগুলি রাষ্ট্রীয় সেন্সরশিপকে বাইপাস করে দেশে একটি জানালা খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ, যদিও ঝুঁকিপূর্ণ, উপায় সরবরাহ করে।
স্পেসএক্স (SpaceX) দ্বারা পরিচালিত স্টারলিংক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানের জন্য পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। প্রযুক্তির বিকেন্দ্রীভূত প্রকৃতি সরকারের পক্ষে এটিকে ব্লক করা কঠিন করে তোলে, যদিও সিগন্যাল জ্যামিং এবং টার্মিনাল সনাক্তকরণ সম্ভাব্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসাবে রয়ে গেছে। ইরানে ব্যবহৃত স্টারলিংক টার্মিনালের নির্দিষ্ট মডেলটি এখনও প্রকাশ্যে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এগুলোতে সাধারণত একটি ছোট স্যাটেলাইট ডিশ, একটি বেস এবং একটি ওয়াই-ফাই রাউটার থাকে।
ইরানে এই টার্মিনালগুলির স্থাপন প্রযুক্তি, সার্বভৌমত্ব এবং মানবাধিকার সম্পর্কে জটিল প্রশ্ন উত্থাপন করে। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য অত্যাবশ্যক হিসাবে বিবেচিত হলেও, এটি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে চাওয়া সরকারগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ইরান সরকার এখনও স্টারলিংক টার্মিনালের উপস্থিতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি, তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এর আগে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহারকে বিদেশি হস্তক্ষেপের একটি রূপ হিসাবে সমালোচনা করেছে।
ইরানের পরিস্থিতি রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সেন্সরশিপকে এড়িয়ে যেয়ে যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করে। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ জানাতে এই প্রযুক্তিগুলোর কার্যকারিতা সম্ভবত বিতর্ক এবং আরও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয় হিসাবে অব্যাহত থাকবে। চলমান সংঘাতের ওপর এর ভবিষ্যৎ প্রভাব এখনও দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment