ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে গেছে, যার ফলে বিভিন্ন পক্ষ সংঘাতের ফলাফলকে প্রভাবিত করার জন্য অনলাইন অপপ্রচার, ভুল তথ্য এবং প্রভাব বিস্তারের প্রচারণা চালাচ্ছে। ভুল তথ্যের প্রবাহ এবং ইরানের তথ্য বিষয়ক পরিবেশের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে, সাধারণভাবে বট নামে পরিচিত ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম যেমন X এবং Instagram-এ মিথ্যা এবং পরস্পরবিরোধী বক্তব্য ছড়াচ্ছে। এই বটগুলো বিভ্রান্তিকর বা কৃত্রিমভাবে তৈরি করা ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে মাঠ পর্যায়ের প্রকৃত পরিস্থিতিকে আরও অস্পষ্ট করে তুলেছে।
গবেষকরা এই সমন্বিত অনলাইন তথ্য প্রচারণার বিষয়টি চিহ্নিত করেছেন, যদিও এর পেছনের আসল কারণ এখনও অধরা। এই ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো থেকে আসা বেশিরভাগ কনটেন্ট ইরানের বিরোধীদের সমর্থন করে বলে মনে হচ্ছে, যার মধ্যে কিছু ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের প্রাক্তন শাহের ছেলে রেজা পাহলভির প্রচার চালাচ্ছে। অন্যদিকে, অন্যান্য অ্যাকাউন্টগুলো ইরান সরকারের এই দাবিকে আরও জোরালো করছে যে, এই অস্থিরতা বিদেশি শত্রুদের দ্বারা পরিচালিত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। ইরানের মিত্ররা, যেমন রাশিয়া, তাদের রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম আউটলেটগুলোর মাধ্যমেও এই দাবিগুলোর প্রতিধ্বনি তুলেছে।
জনমতকে প্রভাবিত করার জন্য বট ব্যবহার করা নতুন কোনো ঘটনা নয়, তবে ইরানের ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কারণে এদের বংশবৃদ্ধির জন্য একটি উর্বর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এই বটগুলো প্রায়শই আসল ব্যবহারকারীর আচরণ নকল করার জন্য অত্যাধুনিক কৌশল ব্যবহার করে, যার কারণে এদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তারা নির্দিষ্ট বক্তব্যকে বাড়িয়ে তুলতে পারে, ভিন্নমত দমন করতে পারে এবং অনলাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে। এই প্রচারণার প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে, যা সম্ভবত জনমতকে প্রভাবিত করতে, রাজনৈতিক আলোচনাকে রূপ দিতে এবং এমনকি বাস্তব জগতে সহিংসতা উস্কে দিতে পারে।
এই ভুল তথ্য প্রচারণার প্রযুক্তিগত পরিশীলিততা ক্রমাগত বাড়ছে। গবেষকরা এই হুমকিগুলো চিহ্নিত করতে এবং মোকাবিলার জন্য নতুন সরঞ্জাম এবং কৌশল তৈরি করছেন, যার মধ্যে রয়েছে মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম যা ভুয়া আচরণের ধরণ শনাক্ত করতে পারে। সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোও তাদের কনটেন্ট নিরীক্ষণ নীতি উন্নত করতে এবং বট অ্যাকাউন্টগুলো সরিয়ে ফেলতে ক্রমবর্ধমান চাপের মধ্যে রয়েছে। তবে, চ্যালেঞ্জটি এখনও অনেক বড়, কারণ এই প্রচারণার পেছনের কুশীলবরা ধরা এড়ানোর জন্য ক্রমাগত তাদের কৌশল পরিবর্তন করছে।
ইরানের ইন্টারনেট বন্ধের বর্তমান অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যের প্রবাহ মারাত্মকভাবে সীমিত রয়েছে। পরবর্তী ঘটনা সম্ভবত অস্থিরতার প্রতি ইরান সরকারের প্রতিক্রিয়ার ওপর এবং তারা ইন্টারনেট বন্ধ কতদিন রাখে তার ওপর নির্ভর করবে। এর মধ্যে, সত্যের জন্য অনলাইন যুদ্ধ চলছে, যেখানে বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের বক্তব্যকে তুলে ধরতে এবং সংঘাতের ফলাফলকে প্রভাবিত করতে চাইছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment