রাষ্ট্রীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের মতে, ইয়োয়েরি মুসেভেনি ৭০% এর বেশি ভোট পেয়ে উগান্ডার রাষ্ট্রপতি হিসাবে তাঁর সপ্তম মেয়াদ নিশ্চিত করেছেন। এই ঘোষণার আগে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং তাঁর প্রধান প্রতিপক্ষ, সঙ্গীতশিল্পী-রাজনীতিবিদ ববি ওয়াইন ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগ করেছিলেন।
ওয়াইন, যাঁর আসল নাম রবার্ট কিয়াগুলানি সেন্টামু, ফলাফলকে জাল বলে নিন্দা করেছেন এবং দাবি করেছেন যে ভোটগ্রহণকারী কর্মীদের অপহরণ করা হয়েছে। তিনি তাঁর সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তিনি যা বিশ্বাস করেন সেই বৈধ নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ওয়াইন আরও অভিযোগ করেছেন যে শুক্রবার নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানের কারণে তিনি তাঁর বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর দল প্রাথমিকভাবে দাবি করেছিল যে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মুসেভেনি, যিনি ৪০ বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছেন, তিনি এখন বিশ্বের তৃতীয় দীর্ঘতম সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা অ-রাজকীয় জাতীয় নেতা। নির্বাচনের ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার এবং ভোট নিরীক্ষণের ক্ষমতা সীমিত ছিল।
উগান্ডার সরকার নির্বাচনের অখণ্ডতা রক্ষা করে উচ্চ ভোটার উপস্থিতি এবং নির্বাচনী আইন মেনে চলার কথা উল্লেখ করেছে। তবে সমালোচকরা ইন্টারনেট বন্ধ, বিরোধী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর খবরকে ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়ার প্রমাণ হিসাবে উল্লেখ করেছেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং জালিয়াতির অভিযোগের একটি স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। আফ্রিকান ইউনিয়ন উগান্ডায় পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে এবং তাদের প্রতিবেদন থেকে নির্বাচনের পরিচালনা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রাজধানী কাম্পালা এবং অন্যান্য প্রধান শহরগুলিতে নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর অবস্থানে থাকায় বর্তমান পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ রয়েছে। ওয়াইনের সমর্থকরা তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ বিবেচনা করার সাথে সাথে বিক্ষোভ ও অস্থিরতার সম্ভাবনা এখনও বেশি। এই নির্বাচনের ফলাফল সম্ভবত উগান্ডার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment