পূর্ব জেরুজালেমের সিলওয়ানের বাত্ন আল-হাওয়া এলাকার বাসিন্দারা ক্রমবর্ধমান উচ্ছেদের সম্মুখীন হচ্ছেন, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে ভয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। কায়েদ রাজাবি, ৫০ বছর বয়সী একজন বাসিন্দা যিনি তার পৈতৃক বাড়িতে সারা জীবন বসবাস করেছেন, তিনি জানান যে জেরুজালেম পৌরসভায় রাস্তা ঝাড়ুদারের কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছেন, এই ভয়ে যে তিনি কর্মস্থলে থাকাকালীন তার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হতে পারে।
রাজাবি, তার সন্তান এবং অনুরূপ পরিস্থিতিতে থাকা অন্যান্য পরিবারগুলোর সাথে তাদের বাড়িতেই রয়ে গেছেন, শিশুরা আসন্ন বাস্তুচ্যুতির হুমকিতে স্কুলে যাওয়াও বন্ধ করে দিয়েছে। "আমার বয়স ৫০ বছর। আমি এখানে জন্মগ্রহণ করেছি," রাজাবি সিলওয়ান উপত্যকা থেকে আল-আকসা মসজিদের দিকে তাকিয়ে তার কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, "আমি এই বাড়িতেই আমার চোখ খুলেছি।"
এই উচ্ছেদ পূর্ব জেরুজালেমে স্থানচ্যুতির একটি বৃহত্তর চিত্রের অংশ, যেখানে ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে তাদের বাড়িঘর থেকে জোর করে উচ্ছেদ করা হচ্ছে, প্রায়শই ইহুদি সংগঠনগুলোর ঐতিহাসিক মালিকানার দাবির কারণে। এই পরিস্থিতি একটি উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে বাসিন্দারা ক্রমবর্ধমানভাবে অরক্ষিত এবং অসহায় বোধ করছেন। রাজাবি এই পরিস্থিতিকে তার হৃদয়ে "অত্যন্ত বেদনা" সৃষ্টিকারী হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বাত্ন আল-হাওয়া এলাকাটি অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত, যা ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে অধিকৃত অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে, এবং ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই উচ্ছেদকে ঘিরে আইনি লড়াই প্রায়শই দীর্ঘায়িত এবং জটিল, যেখানে মালিকানার দাবিগুলো ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আগের সময়ের। ফিলিস্তিনি বাসিন্দারা যুক্তি দেখান যে এই দাবিগুলো তাদের বাড়িঘর ও জমি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ইহুদি সংগঠনগুলো দাবি করে যে তারা তাদের ন্যায্য সম্পত্তি পুনরুদ্ধার করছে।
উচ্ছেদের বর্তমান অবস্থা এখনও অনিশ্চিত, আইনি চ্যালেঞ্জগুলো চলমান রয়েছে। তবে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর উপর এর প্রভাব ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য, যা তাদের জীবনকে ব্যাহত করছে এবং একটি অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি করছে। পরিস্থিতিটি আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, যারা উচ্ছেদের মানবিক পরিণতি এবং অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment