সম্প্রতি একটি ঘোষণায় নাসা জানিয়েছে যে তারা মঙ্গল গ্রহের পাথরের নমুনা পৃথিবীতে আর ফিরিয়ে আনবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে মূল্যবান গবেষণা সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। Nature Briefing Podcast-এর ২০২৬ সালের ১৬ই জানুয়ারীর প্রতিবেদনে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত পরিবর্তনের কথা জানানো হয়েছে। এর মানে হল পারসিভের্যান্স রোভার (Perseverance rover) দ্বারা সংগৃহীত নমুনাগুলি অনির্দিষ্টকালের জন্য মঙ্গলেই থেকে যাবে।
নাসার অভ্যন্তরীণ সূত্র অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্তের কারণ হল বাজেট সংকট এবং সংশোধিত ঝুঁকি মূল্যায়ন। মূলত মার্স স্যাম্পেল রিটার্ন (MSR) মিশন ছিল ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির (ESA) সাথে একটি যৌথ উদ্যোগ। এর লক্ষ্য ছিল পৃথিবীতে অত্যাধুনিক পরীক্ষাগারে সংগৃহীত নমুনাগুলির বিশদ বিশ্লেষণ করা, যেখানে অতীত বা বর্তমান জীবনের লক্ষণ অনুসন্ধান এবং গ্রহের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস জানার জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যেত।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজির বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী ডঃ এমিলি কার্টার ঘোষণা প্রকাশের পরপরই এক বিবৃতিতে বলেন, "পৃথিবীতে এই নমুনাগুলি বিশ্লেষণ করতে না পারা গ্রহ বিজ্ঞান এর জন্য একটি বড় ধাক্কা। মঙ্গলে বর্তমানে যে প্রযুক্তি নেই, তা ব্যবহার করার সুযোগ আমরা হারাচ্ছি, যা মহাবিশ্ব সম্পর্কে আমাদের ধারণাকে সম্পূর্ণরূপে পরিবর্তন করতে পারত।"
অন্য একটি খবরে, কুকুরের কান ঝুলে থাকার কারণ অনুসন্ধানে তাদের বংশগতি নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে। নেচারে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে যে নির্দিষ্ট জিনের পরিবর্তনের কারণে কিছু প্রজাতির কুকুরের কান ঝুলে থাকে। এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ডঃ অ্যালিস থম্পসনের নেতৃত্বে একটি গবেষক দল শত শত কুকুরের জিনোম বিশ্লেষণ করে কানের আকারের সাথে সম্পর্কিত মূল অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করেছেন।
ডঃ থম্পসন ব্যাখ্যা করেছেন, "আমাদের গবেষণা থেকে জানা যায় যে কানের আকার এবং আকৃতিকে প্রভাবিত করে এমন জিনগুলি সম্ভবত গৃহপালিত করার সময় কৃত্রিম নির্বাচনের লক্ষ্য ছিল। আদিম মানুষ সম্ভবত শান্ত স্বভাবের কুকুর পছন্দ করত এবং এই বৈশিষ্ট্যগুলি সম্ভবত ঝুলে থাকা কানের মতো শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে জিনগতভাবে যুক্ত ছিল।"
এই গবেষণাটি গৃহপালিত প্রাণীদের বিবর্তনীয় ইতিহাস উন্মোচনে জিনোম বিশ্লেষণের ক্ষমতা তুলে ধরে। বিভিন্ন প্রজাতির কুকুরের জিনোমের তুলনা করে বিজ্ঞানীরা লোমের রঙ থেকে শুরু করে আচরণ পর্যন্ত বিস্তৃত বৈশিষ্ট্যের জিনগত ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা পেতে পারেন। এই জ্ঞান মানুষসহ অন্যান্য প্রজাতির জটিল বৈশিষ্ট্যের জিনগত গঠন বুঝতে সাহায্য করে।
মার্স স্যাম্পেল রিটার্ন মিশনের বাতিল হওয়া মহাকাশ অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নাসা মঙ্গল গ্রহ নিয়ে গবেষণার জন্য বিকল্প কৌশল অনুসন্ধান চালিয়ে গেলেও বিজ্ঞানী মহল এই সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে চিন্তিত। অন্যদিকে, কুকুরের কানের আকারের উপর করা জিনগত গবেষণা অত্যাধুনিক বিশ্লেষণমূলক কৌশল এবং যৌথ গবেষণা প্রচেষ্টার মাধ্যমে বংশগতি এবং বিবর্তন সম্পর্কে আমাদের ক্রমাগত অগ্রগতি প্রদর্শন করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment