কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্কে (ডিআরসি), মাফুকো নামের একটি বিপন্নপ্রায় পর্বত গরিলা যমজ সন্তানের জন্ম দিয়েছে, যা এই প্রজাতির সংরক্ষণে আশার সঞ্চার করেছে। ভিরুঙ্গার গরিলা পর্যবেক্ষণ প্রধান জ্যাক কাটু্টু এই জন্মের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেছেন। তিনি জানান, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যদিও এই নবজাতকদের বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবীণ রেঞ্জার কাটু্টু নবজাতক পুরুষ বাচ্চা দুটিকে দুর্বল হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং পর্বত গরিলাদের মধ্যে শিশু মৃত্যুর উচ্চ হারের কথা উল্লেখ করেছেন। পার্কের কর্মকর্তাদের মতে, রোগ, চোরাশিকারিদের ফাঁদ এবং শিশু হত্যার ঝুঁকি তাদের বেঁচে থাকার পথে প্রধান হুমকি। এই বিপদ সত্ত্বেও, এই জন্মকে এই অঞ্চলের সংরক্ষণ প্রচেষ্টার একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পর্বত গরিলা অতি বিপন্ন, এদের সংখ্যা মূলত ভিরুঙ্গা পর্বতমালায় সীমাবদ্ধ, যা ডিআরসি, রুয়ান্ডা এবং উগান্ডার সীমান্তজুড়ে বিস্তৃত। কয়েক দশকের সংঘাত, আবাসস্থল হ্রাস এবং চোরাশিকার তাদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। চোরাশিকার বিরোধী টহল এবং কমিউনিটি এনগেজমেন্ট প্রোগ্রামসহ সংরক্ষণ উদ্যোগগুলো গরিলাদের সংখ্যা স্থিতিশীল করতে এবং ধীরে ধীরে বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পর্বত গরিলাদের মধ্যে যমজ সন্তানের জন্ম তুলনামূলকভাবে বিরল। সাধারণত, স্ত্রী গরিলা একটি সন্তানের জন্ম দেয়। জানা যায়, মাফুকো তার যমজ বাচ্চাদের যত্ন নিচ্ছে, তবে তাদের জীবনের প্রথম কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রেঞ্জার্সরা পরিবারটিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন, সুরক্ষা প্রদান করছেন এবং তাদের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখছেন।
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট ভিরুঙ্গা ন্যাশনাল পার্ক, পর্বত গরিলা এবং অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতির সুরক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, অবৈধ সম্পদ আহরণ এবং সশস্ত্র সংঘাতসহ পার্কটি বর্তমানে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। নিবেদিতপ্রাণ রেঞ্জার্সদের উপস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর সমর্থন এই গরিলাদের টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। মাফুকোর যমজ বাচ্চাদের ভাগ্য নির্ধারণে আগামী কয়েক সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এবং বিশ্বজুড়ে সংরক্ষণবাদীরা তাদের অগ্রগতির দিকে closely নজর রাখবেন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment