গ্রিনল্যান্ডের নুুকে শনিবার হাজার হাজার গ্রিনল্যান্ডবাসী সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অঞ্চলটির প্রতি নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন। গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের একটি স্ব-শাসিত অংশ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অনুসারে, বিক্ষোভকারীরা হাতে প্ল্যাকার্ড বহন করেন, গ্রিনল্যান্ডের পতাকা নাড়েন এবং "গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়" এই স্লোগান দিতে দিতে নুউক শহরের কেন্দ্র থেকে মার্কিন কনস্যুলেটের দিকে মিছিল করেন।
ফ্লোরিডা থেকে দেওয়া এক বক্তৃতায় ট্রাম্প আটটি ইউরোপীয় দেশ থেকে আসা পণ্যের উপর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কার্যকর হওয়া ১০% আমদানি শুল্কের ঘোষণা করার খবরের সাথে এই বিক্ষোভ মিলে যায়। ট্রাম্প এই শুল্ক চাপানোর কারণ হিসেবে দেশগুলোর গ্রিনল্যান্ডের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতাকে উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং খনিজ সম্পদের কথা উল্লেখ করে এটি অধিগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। নিউজ এজেন্সিগুলোর মতে, ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে জানুয়ারীর প্রথম দিকে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই মার্কিন নিয়ন্ত্রণের জন্য তাঁর নতুন আহ্বান আসে।
নুুকে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে সকল বয়সের গ্রিনল্যান্ডবাসীরা ঐতিহ্যবাহী ইনুইট গান ও বক্তৃতা শোনেন। এই পদযাত্রা গ্রিনল্যান্ডবাসীর মধ্যে তাদের স্ব-শাসনে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে তুলে ধরে।
গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার আগ্রহের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময় থেকে শুরু। ১৯৪৬ সালে, আমেরিকা ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলার প্রস্তাব করেছিল, কিন্তু প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা হয়। গ্রিনল্যান্ডে থুল এয়ার বেসে আমেরিকার একটি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্লি ওয়ার্নিং রাডার সুবিধা।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আর্কটিক অঞ্চলের জটিল ভূ-রাজনৈতিক গতিশীলতাকে তুলে ধরে, যেখানে বরফ গলতে থাকার কারণে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ এবং মূল্যবান সম্পদ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অন্যান্য আর্কটিক দেশগুলো এই অঞ্চলে সামরিকীকরণ এবং পরিবেশগত অবনতির সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আমদানি শুল্কের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র এবং বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের মধ্যে ইতিমধ্যেই থাকা উত্তেজনাকর সম্পর্কের মধ্যে আরও একটি জটিলতা যোগ করেছে। এই নীতিগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব গ্রিনল্যান্ডের অর্থনীতি এবং ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এর সম্পর্কের উপর কেমন হবে, তা দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment