এই সপ্তাহের শুরুতে, এমআইটি টেকনোলজি রিভিউ তাদের বার্ষিক টেন ব্রেকথ্রু টেকনোলজিসের তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ২০২৬ সালের মধ্যে জৈবপ্রযুক্তি সহ বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে প্রস্তুত উদ্ভাবনগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এই তালিকায় এমন কিছু প্রযুক্তি রয়েছে যা গত বছরে প্রাধান্য পেয়েছে এবং যা ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে শক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ ভ্রমণ এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক অগ্রগতি।
জৈবপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে তিনটি প্রযুক্তি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: বেস-এডিটেড শিশু, প্রাচীন প্রজাতি থেকে পুনরুত্থিত জিন এবং নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য ভ্রূণ স্ক্রিনিং। এই প্রযুক্তিগুলো বিপুল সম্ভাবনা ধারণ করার পাশাপাশি কিছু নৈতিক বিবেচনারও জন্ম দেয় যা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহল এবং এর বাইরেও বিতর্ক চলছে।
সবচেয়ে যুগান্তকারী, তবুও বিতর্কিত উন্নয়নগুলোর মধ্যে একটি হলো শিশুদের মধ্যে জিন সম্পাদনা। অগাস্ট ২০২৪-এ, কেজে মুলডুন নামে একটি শিশু বিরল জেনেটিক রোগ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে, যার কারণে তার রক্তে বিষাক্ত অ্যামোনিয়া জমা হতে শুরু করে। সম্ভাব্য মারাত্মক পরিণতি এবং স্নায়বিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ায় মুলডুন একটি পরীক্ষামূলক জিন থেরাপি গ্রহণ করে, যা তার নির্দিষ্ট জেনেটিক মিউটেশন সংশোধন করার জন্য ডিজাইন করা একটি ব্যক্তিগতকৃত বেস এডিটিং চিকিৎসা। এই ঘটনাটি বংশগত রোগের চিকিৎসায় জিন সম্পাদনার প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মতো ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসার বিকল্প সরবরাহ করে।
দ্বিতীয় উদ্ভাবনী প্রযুক্তিটি হলো প্রাচীন প্রজাতি থেকে জিন পুনরুদ্ধার করা। বিজ্ঞানীরা বিলুপ্ত জিনগুলোকে জীবিত প্রাণীর মধ্যে পুনরায় প্রবেশ করিয়ে তাদের কার্যকারিতা অধ্যয়ন এবং সম্ভাব্য উপকারী বৈশিষ্ট্যগুলো অর্জনের উপায় অনুসন্ধান করছেন। এই গবেষণা বিবর্তনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে এবং নতুন থেরাপি বা জৈবপ্রযুক্তিগত অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিকাশের দিকে পরিচালিত করতে পারে।
তৃতীয় যে প্রযুক্তিটি তুলে ধরা হয়েছে তা হলো উচ্চতা এবং বুদ্ধিমত্তার মতো বৈশিষ্ট্যের জন্য ভ্রূণ স্ক্রিনিং। এই বিতর্কিত প্রযুক্তিটি অভিভাবকদের কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে ভ্রূণ নির্বাচন করার সুযোগ দেয়। এই ধরনের স্ক্রিনিংয়ের নৈতিক প্রভাবগুলো তাৎপর্যপূর্ণ, যা সম্ভাব্য বৈষম্য এবং "কাঙ্ক্ষিত" বৈশিষ্ট্যের সংজ্ঞা সম্পর্কে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
এই তিনটি প্রযুক্তি ২০২৬ সালের মধ্যে জৈবপ্রযুক্তিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি চালাবে বলে আশা করা হচ্ছে, তবে তাদের বিকাশ এবং বাস্তবায়নের জন্য নৈতিক ও সামাজিক প্রভাবগুলো সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হবে। এই প্রযুক্তিগুলো ঘিরে চলমান আলোচনা এবং বিতর্ক তাদের ভবিষ্যতের গতিপথ এবং সমাজের উপর তাদের প্রভাবকে আকার দেবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment