গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়া দেশগুলোর উপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের হুমকিকে ইউরোপীয় নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন। প্রস্তাবিত শুল্কের লক্ষ্যবস্তু হওয়া আটটি দেশ রবিবার একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করে ডেনমার্ক এবং ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রীনল্যান্ডের জনগণের প্রতি তাদের সম্মিলিত সমর্থন ব্যক্ত করেছে।
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন তার প্রশাসন প্রকাশ্যে আর্কটিক দ্বীপটি কেনার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। ডেনমার্ক বারবার গ্রীনল্যান্ড বিক্রির ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছে, যার ফলে ট্রাম্প অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছেন।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, "এই শুল্কগুলো সার্বভৌম দেশগুলোকে ভয় দেখানোর এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ক্ষুন্ন করার একটি নির্লজ্জ প্রচেষ্টা। এই অযাচিত আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমরা ডেনমার্ক এবং গ্রীনল্যান্ডের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছি।" বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী নির্দিষ্ট নেতাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
গ্রীনল্যান্ড অধিগ্রহণের সম্ভাবনা শুধুমাত্র ইউরোপে নয়, গ্রীনল্যান্ডের ভেতরেও ব্যাপক সমালোচিত হয়েছে। ২০১৭ সালের ১৭ই জানুয়ারি, হাজার হাজার গ্রীনল্যান্ডের নাগরিক রাজধানী নুুকে বিক্ষোভ করে গ্রীনল্যান্ডের পতাকা নেড়ে প্রতিবাদ জানায়। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভটি শহরের প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষকে আকৃষ্ট করেছিল।
গ্রীনল্যান্ড ডেনমার্ক রাজ্যের অংশ হলেও এর যথেষ্ট পরিমাণে স্ব-শাসন রয়েছে এবং এটি তার অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিচালনা করে। ডেনমার্ক গ্রীনল্যান্ডের পররাষ্ট্র নীতি ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য দায়ী। দ্বীপটির কৌশলগত অবস্থান, সম্পদ উত্তোলনের সম্ভাবনা এবং সামরিক অবস্থানের কারণে এটি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বশক্তির আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নও এই বিরোধে নিজেদের মতামত জানিয়েছে। ব্রাসেলসের কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, শুল্কগুলো একটি বাণিজ্য যুদ্ধের সূত্রপাত করতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের একজন মুখপাত্র বলেছেন, "ইইউ তার সদস্য রাষ্ট্র এবং অংশীদারদের সাথে সংহতি জানাচ্ছে। আমাদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।"
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়নি যে, কখন থেকে এই শুল্ক কার্যকর করা হবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল এবং উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলছে। তবে, শুল্কের হুমকি ইতিমধ্যেই ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের উপর ছায়া ফেলেছে, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment