সম্ভাব্য নির্বাহী ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে, গ্রিনল্যান্ডে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহকে নিয়ন্ত্রণে কংগ্রেসের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ভেনেজুয়েলার ঘটনায় হস্তক্ষেপ এবং প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তারের পর উৎসাহিত ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকার অন্যান্য অংশেও অনুরূপ পদক্ষেপের বিষয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করেছে, তবে গ্রিনল্যান্ড, একটি ন্যাটো সদস্য এবং দীর্ঘদিনের মার্কিন অংশীদার, প্রেসিডেন্টের বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
এই হুমকিগুলো, মূলত একতরফা নির্বাহী পদক্ষেপের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ক্যাপিটল হিলে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, এমনকি কিছু রিপাবলিকানও ট্রাম্পের শেষ মেয়াদে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। সিএনএন-এর একজন সিনিয়র রিপোর্টার অ্যানি গ্রায়ার "টুডে, এক্সপ্লেইনড" পডকাস্টে কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া এবং রিপাবলিকান দলের মধ্যে বিভাজন নিয়ে আলোচনা করেছেন।
গ্রিনল্যান্ডে ট্রাম্পের আগ্রহের নির্দিষ্ট প্রকৃতি এখনও কিছুটা অস্পষ্ট, তবে প্রশাসনের প্রকাশ্য ঘোষণাগুলি অঞ্চলটি অধিগ্রহণ বা তার উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রচেষ্টা সম্পর্কে জল্পনা উস্কে দিয়েছে। এর ফলে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে, যেমন ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে কোপেনহেগেনে মার্কিন দূতাবাসের বাইরে "গ্রিনল্যান্ড গ্রিনল্যান্ডবাসীদের" বিক্ষোভ।
গ্রিনল্যান্ডে কৌশলগত আগ্রহের একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, বিশেষ করে এর অবস্থান এবং সম্ভাব্য সম্পদ প্রাচুর্যের কারণে। শীতল যুদ্ধের সময়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপটিতে একটি উল্লেখযোগ্য সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছিল এবং থুল এয়ার বেস মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে রয়ে গেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি পররাষ্ট্র নীতি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্বাহী ও আইন বিভাগের মধ্যে চলমান উত্তেজনা তুলে ধরে। যদিও রাষ্ট্রপতি ঐতিহ্যগতভাবে বৈদেশিক বিষয়ে উল্লেখযোগ্য কর্তৃত্ব রাখেন, কংগ্রেস আইন প্রণয়ন, বরাদ্দ এবং তদারকির মাধ্যমে নির্বাহীর ক্ষমতা পরীক্ষা করার ক্ষমতা রাখে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রেসিডেন্টের বিকল্পগুলি সীমিত করতে কংগ্রেস কোনো ठोस পদক্ষেপ নেবে কিনা, তা এখনও দেখার বিষয়। রিপাবলিকান দলের মধ্যে নতুন বিভাজন ইঙ্গিত দেয় যে কিছু সদস্য প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ইচ্ছুক হতে পারেন, তবে তাদের বিরোধিতার মাত্রা এবং এর সম্ভাব্য প্রভাব এখনও অনিশ্চিত। আগামী মাসগুলোতে সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র-গ্রিনল্যান্ড সম্পর্ক এবং পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণে নির্বাহী ও আইন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment