বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিক্ষোভ, সরকারের দমন-পীড়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা ইরানের ইসলামিক প্রজাতন্ত্রকে এক সংকটপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়েছে। আধুনিক ইরান বিষয়ক ইতিহাসবিদ এবং ইউরেশিয়া গ্রুপের সিনিয়র বিশ্লেষক গ্রেগরি ব্রু সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে লিখেছেন, "ইরানের বর্তমান সরকারের গতিপথ টেকসই নয়। অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং ভিন্নমত দমনে ক্রমবর্ধমান বলপ্রয়োগ এর বৈশিষ্ট্য।"
জানুয়ারীর শুরু থেকে চলমান বিক্ষোভগুলো সরকারের অর্থনৈতিক নীতি এবং সামাজিক বিধিনিষেধের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষের প্রতিফলন। সরকারের প্রতিক্রিয়া আন্তর্জাতিক নিন্দার সম্মুখীন হয়েছে, মানবাধিকার সংস্থাগুলি অসংখ্য মৃত্যু এবং গ্রেপ্তারের খবর দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছে, যদিও এই ধরনের পদক্ষেপের নির্দিষ্ট প্রকৃতি এখনও অস্পষ্ট।
ব্রু মনে করেন, ইসলামিক প্রজাতন্ত্র অভ্যন্তরীণ সংস্কার নাকি চূড়ান্ত পতন - এই দুইয়ের মধ্যে একটি বেছে নিতে বাধ্য। ব্রু লিখেছেন, "পথ পরিবর্তন না করলে সরকারের [নিশ্চিত] বেদনাদায়ক মৃত্যু হবে।" তিনি উল্লেখ করেন যে, এমনকি স্বৈরাচারী সরকারগুলোও মাঝে মাঝে সংস্কার করতে সক্ষম হয়।
নির্বাসিত শাহের পুত্র রেজা পাহলভির সম্ভাব্য নেতা হিসেবে উত্থান আংশিকভাবে হলেও শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উস্কে দিয়েছে। পাহলভি বর্তমান সরকার পতিত হলে একটি প্রধান ভূমিকা পালনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন।
তবে সামনের পথ এখনও অনিশ্চিত। ইরান সরকার পিছু হটার কোনো লক্ষণ দেখায়নি, এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কার একটি কার্যকর বিকল্প কিনা তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বছরের পর বছর ধরে চলা অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিপীড়ন এবং আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার চূড়ান্ত রূপ। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক প্রজাতন্ত্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ ভিন্নমতসহ অসংখ্য চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে।
শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে বিশ্লেষকদের ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। কারো কারো মতে বর্তমান পরিস্থিতি টেকসই নয় এবং সরকার শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়বে। আবার কেউ কেউ মনে করেন যে সরকার স্থিতিস্থাপক এবং বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।
ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আগামী সপ্তাহ এবং মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিক্ষোভের প্রতি সরকারের প্রতিক্রিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এবং বিকল্প নেতাদের উত্থান - সবকিছুই দেশটির ভাগ্য গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment