চীনের আবাসন বাজারের পতন এখন দেশটির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর একটি উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করেছে, যা বাণিজ্য উত্তেজনার আগের উদ্বেগগুলোকে ছাপিয়ে গেছে। নতুন বাড়ির বিক্রি ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে, যেখানে বিদ্যমান অ্যাপার্টমেন্টের দাম তীব্রভাবে হ্রাস পেয়েছে। এই মন্দার কারণে একটি ঢেউয়ের মতো প্রভাব পড়েছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ পরিবার তাদের সম্পত্তির মূল্য হ্রাসের কারণে খরচ কমিয়ে দিয়েছে।
রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট স্থানীয় সরকারগুলোর ওপরও প্রভাব ফেলেছে, যারা রাজস্বের জন্য ভূমি বিক্রির উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এই সরকারগুলো এখন তাদের আর্থিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছে, যার মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতনও অন্তর্ভুক্ত। যদিও চীনের পরিসংখ্যানবিদরা গত বছর ধরে একটি ধারাবাহিক ৫ শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা জানিয়েছেন, যা আগের বছরের কর্মক্ষমতা এবং সরকারের লক্ষ্যমাত্রার সাথে সঙ্গতিপূর্ণ, তবে অন্তর্নিহিত বাস্তবতা একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এই প্রবৃদ্ধি মূলত রপ্তানি বৃদ্ধির দ্বারা চালিত হয়েছে, যার ফলে ২০২৫ সালে ১.১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্ত হয়েছে।
আবাসন বাজারের পতন, যা চার বছর আগে শুরু হয়েছিল, তা ক্রমাগত খারাপের দিকে যাচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সম্পত্তির মূল্য হ্রাস অনিশ্চয়তার অনুভূতি তৈরি করেছে এবং ভোক্তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে খরচ এবং বিনিয়োগ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাত যেমন নির্মাণ, গৃহস্থালী যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র, যা আবাসন বাজারের সাথে যুক্ত, সেগুলো প্রভাবিত হয়েছে।
চীনা সরকার তার প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রার সাথে আবাসন বাজারের অন্তর্নিহিত সমস্যাগুলো মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। রপ্তানিমুখী প্রবৃদ্ধি সাময়িকভাবে উৎসাহ যোগালেও, একটি স্থিতিশীল এবং স্বাস্থ্যকর রিয়েল এস্টেট খাত একটি টেকসই অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য প্রয়োজন। ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি সরকারের আবাসন বাজারকে স্থিতিশীল করতে, ভোক্তাদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির উৎসগুলোকে বহুমুখী করতে কার্যকর পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ক্ষমতার উপর নির্ভর করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment