জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিবিসিকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ক্রমবর্ধমানভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দায়মুক্তির সাথে কাজ করছে, এই বিশ্বাসে যে তাদের ক্ষমতা আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে। বিবিসি রেডিও ৪-এর "টুডে" অনুষ্ঠানে কথা বলার সময় গুতেরেস বলেন, ওয়াশিংটনের একটি "স্পষ্ট ধারণা" রয়েছে যে বহুপাক্ষিক সমাধান অপ্রাসঙ্গিক, এবং তারা নিজস্ব ক্ষমতা ও প্রভাবের ব্যবহারকে অগ্রাধিকার দেয়, কখনও কখনও আন্তর্জাতিক আইনি নিয়মকে উপেক্ষা করে।
গুতেরেসের এই মন্তব্য সাম্প্রতিক মার্কিন পদক্ষেপের পরে এসেছে, যার মধ্যে ভেনেজুয়েলার উপর হামলা এবং এর রাষ্ট্রপতিকে আটক করা, সেইসাথে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকিও রয়েছে। গুতেরেসের মতে, এই পদক্ষেপগুলি জাতিসংঘের মৌলিক নীতি, বিশেষ করে সদস্য রাষ্ট্রগুলির সমতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনে দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং একতরফা পদক্ষেপের উদ্বেগজনক প্রবণতাকে তুলে ধরে। বিবিসিকে গুতেরেস বলেন, "আইনের ক্ষমতাকে ক্ষমতার আইন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা উচিত," যা তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি বলে মনে করেন।
জাতিসংঘ ১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে সম্মিলিত নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং এর সকল সদস্যের সার্বভৌম সমতার নীতির উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। জাতিসংঘের সনদ আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতির কাঠামো তৈরি করে, যার লক্ষ্য সংঘাত প্রতিরোধ এবং বিশ্বব্যাপী উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। তবে, জাতিসংঘের কার্যকারিতা প্রায়শই নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচটি স্থায়ী সদস্য - মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স এবং যুক্তরাজ্য - এর ভেটো ক্ষমতা দ্বারা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, যা তাদের যে কাউকে প্রস্তাবগুলি আটকাতে দেয়।
ট্রাম্প এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণে এর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে তিনি "সাতটি শেষ না হওয়া যুদ্ধ" স্বাধীনভাবে শেষ করেছেন এবং পরামর্শ দিয়েছিলেন যে জাতিসংঘ "কিছুই করেনি"।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের মধ্যে সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এখনও উত্তেজনাকর। গুতেরেসের মন্তব্য অনেক দেশের মধ্যে বহুপাক্ষিকতাবাদের ক্ষয় এবং শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলির একতরফা পদক্ষেপের উত্থান নিয়ে উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটায়। এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতা দুর্বল হতে পারে, যা সম্ভাব্যভাবে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়িয়ে দিতে পারে। জাতিসংঘ একটি নিয়ম-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার পক্ষে কথা বলা অব্যাহত রেখেছে, তবে প্রধান শক্তিগুলির পদক্ষেপের কারণে এই নীতিগুলি প্রয়োগ করার ক্ষমতা ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment