গাজায় নতুন করে একটি ঝড়ের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যা অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাস করা বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য ইতিমধ্যেই ভয়াবহ পরিস্থিতিকে আরও সংকটপূর্ণ করে তুলবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অঞ্চলের কঠিন শীতের আবহাওয়া মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত নয়।
ইসরায়েলের দুই বছরের যুদ্ধের ফলে গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যা, প্রায় দুই মিলিয়ন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ঝড়টি আঘাত হানতে যাচ্ছে। আল জাজিরার তারেক আবু আজ্জুম মাঠ পর্যায়ের "বেদনাদায়ক এবং ভয়ঙ্কর গল্প"-এর কথা জানিয়েছেন, যেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষের অসহায়তার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে, গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস জানায় যে, চরম আবহাওয়ার কারণে বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোর ১ লক্ষ ৩৫ হাজার তাঁবুর মধ্যে ১ লক্ষ ২৭ হাজার তাঁবু ইতিমধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পর্যাপ্ত আশ্রয়ের অভাবে বাসিন্দারা প্রকৃতির বিরূপ পরিস্থিতির শিকার হচ্ছে, যা অসুস্থতার ঝুঁকি এবং আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সাহায্য অবরোধের খবরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল সাহায্য বন্ধ করে দেওয়ায় গাজার শিশুরা তীব্র ঠান্ডায় ভুগছে। ইসরায়েলের যুদ্ধের পর গাজা ভূখণ্ডে দারিদ্র্য ও বেকারত্বও আকাশচুম্বী হয়েছে।
চলমান সংঘাত গাজার অবকাঠামো ও অর্থনীতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বাড়িঘর ও জরুরি পরিষেবা ধ্বংসের কারণে জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের পাশাপাশি অন্যান্য সাহায্য সংস্থাগুলো প্রবেশে বাধা এবং তহবিলের ঘাটতির কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আসন্ন ঝড়টি ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস নিয়ে আসবে, যা দুর্বল হয়ে যাওয়া আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং নিচু এলাকাগুলোতে বন্যার কারণ হতে পারে। মানবিক সংস্থাগুলো জরুরি সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে আশ্রয়কেন্দ্র মেরামত, খাদ্য এবং চিকিৎসা সেবা। তবে চলমান সংঘাত এবং প্রবেশে বাধার কারণে কার্যকরভাবে সাহায্য সরবরাহ করার ক্ষমতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment