জার্মানির ১৮ বছর বয়সী পুরুষদের চলতি বছরের শুরু থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে প্রশ্নপত্র পাঠানো শুরু হয়েছে, যেখানে তাদের সামরিক চাকরিতে যোগদানের যোগ্যতা যাচাই করা হবে। গত মাসে এই সংক্রান্ত একটি আইন পাশ করা হয়েছে। জার্মানির দাবি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তারা ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী তৈরি করতে চলেছে।
যদিও সেনাবাহিনীতে যোগদান এখনও পর্যন্ত ঐচ্ছিক, তবে নতুন আইনটি সরকারকে প্রয়োজন অনুযায়ী বাধ্যতামূলকভাবে লোক নিয়োগের অধিকার দিয়েছে, যাতে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক লক্ষ্য পূরণ করা যায়। এই উদ্যোগটি জার্মান প্রতিরক্ষা নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনকে প্রতিফলিত করে, যা পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার দ্বারা চালিত।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, গত নভেম্বরে জার্মানির সক্রিয় সেনাসদস্যের সংখ্যা ছিল ১,৮৪,০০০, যা মে মাসের পর থেকে ২,৫০০ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইউরোপীয় নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের মধ্যে এই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে ইউক্রেনের চলমান সংঘাত এবং রাশিয়ার কাছ থেকে আসা হুমকির কারণে।
সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত জার্মানির ন্যাটো (NATO) বাধ্যবাধকতা পূরণ এবং সম্মিলিত সুরক্ষায় অবদান রাখার প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে। রয়টার্সের মতে, জার্মানির আহলেনে (Ahlen) নভেম্বর ২০২৫-এ প্রদর্শিত প্রোগ্রামটি, সৈন্যদের অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা এবং ন্যাটো (NATO) উভয় অপারেশনের জন্য প্রস্তুত করার জন্য সেনাবাহিনীর প্রচেষ্টাকে তুলে ধরেছে।
সামরিক প্রস্তুতির এই পুনর্মূল্যায়নে প্রশিক্ষণ, রসদ এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) সহ প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকেও কাজে লাগানো হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) অ্যালগরিদম ব্যবহার করে সম্পদ বরাদ্দ অপ্টিমাইজ করা, সম্ভাব্য হুমকিগুলোর পূর্বাভাস দেওয়া এবং সামরিক অভিযানের দক্ষতা উন্নত করার চেষ্টা চলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) এই ব্যবহার কিছু গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক বিষয় উত্থাপন করে, যার মধ্যে রয়েছে মানুষের তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অ্যালগরিদমের পক্ষপাতিত্ব প্রতিরোধ করা।
জার্মানির সামরিক শক্তি বৃদ্ধির প্রভাব তার সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা সম্ভবত ইউরোপের ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন আকার দিতে এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে পারে। এই পদক্ষেপ মিত্র এবং প্রতিপক্ষ উভয়ের মধ্যেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, কেউ কেউ জার্মানির প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতির বৃদ্ধিকে স্বাগত জানাচ্ছে, আবার কেউ কেউ উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
জার্মানির সামরিক সম্প্রসারণের পরিধি এবং গতি, সেইসাথে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা গতিশীলতার উপর এর প্রভাব নির্ধারণের ক্ষেত্রে আগামী মাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকার অদূর ভবিষ্যতে তার দীর্ঘমেয়াদী প্রতিরক্ষা কৌশল এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment