"মেক আমেরিকা গো এওয়ে" লেখা লাল বেসবল ক্যাপ, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের "মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন" স্লোগানের প্যারোডি, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ট্রাম্পের আর্কটিক অঞ্চলটি অধিগ্রহণের আগ্রহের পরেই এই ঘটনা ঘটে। কোপেনহেগেনের ভিনটেজ পোশাকের দোকান মালিক জেস্পার রাবে টোনেসসেনের তৈরি করা এই টুপিগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের গ্রিনল্যান্ডের উপর ক্রমবর্ধমান মনোযোগের পরে জনপ্রিয়তা লাভ করে।
কোপেনহেগেনে সাম্প্রতিক বিক্ষোভসহ বিভিন্ন জনসমাবেশে এই ক্যাপগুলি দেখা গেছে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা গ্রিনল্যান্ডের প্রতি তাদের সমর্থন এবং মার্কিন নীতির প্রতি তাদের অপছন্দ ব্যক্ত করেছেন। শনিবারের বিক্ষোভে টুপি পরা ৭৬ বছর বয়সী কোপেনহেগেনের বাসিন্দা লার্স হারমানসেন বলেন, "আমি গ্রিনল্যান্ডকে আমার সমর্থন দেখাতে চাই এবং একই সাথে জানাতে চাই যে আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতিকে পছন্দ করি না।"
প্যারোডি ক্যাপগুলোর প্রথম চালান মার্কিন সরকারের গ্রিনল্যান্ডের উপর নতুন করে মনোযোগ দেওয়ার আগে পর্যন্ত জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। ২০১৯ সালে যখন খবর আসে যে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ট্রাম্প ডেনমার্কের রাজ্যের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন, তখন এই ঘটনাটি ঘটে। ডেনিশ সরকার দৃঢ়ভাবে এই ধারণা প্রত্যাখ্যান করে এবং এটিকে অযৌক্তিক বলে অভিহিত করে।
এই প্রস্তাব এবং পরবর্তী প্রত্যাখ্যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ডেনমার্কের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের মতে, ইউরোপীয় সরকারগুলো ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে, আর্কটিক অঞ্চল রক্ষার গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছে এবং সতর্ক করেছে যে গ্রিনল্যান্ডের বিরুদ্ধে যেকোনো পদক্ষেপ পশ্চিমা নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
যদিও মার্কিন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রিনল্যান্ড কেনার জন্য কখনও প্রস্তাব দেয়নি, তবে আলোচনায় আর্কটিক অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্ব এবং গ্রিনল্যান্ডের ভূ-রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরা হয়েছে। এই অঞ্চলটি প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এবং এর অবস্থান সামরিক ও বাণিজ্য পথের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যেকার জটিল সম্পর্ককে তুলে ধরে, বিশেষ করে আর্কটিক নিরাপত্তা এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রেক্ষাপটে। এই সম্পর্কগুলোর ভবিষ্যৎ এখনও দেখার বিষয়।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment