পরিবারবান্ধব নীতি সত্ত্বেও চীনে জন্মহার নতুন সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। বৃহত্তর পরিবার উৎসাহিত করার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগ সত্ত্বেও, ২০২৫ সালে চীনের জন্মহার রেকর্ড সর্বনিম্নে পৌঁছেছে। এই পতন জনসংখ্যাতাত্ত্বিক ফলাফলের রূপায়ণে অর্থনৈতিক চাপ, সামাজিক প্রবণতা এবং নীতির কার্যকারিতার জটিল পারস্পরিক ক্রিয়াকে তুলে ধরে।
ন্যাশনাল ব্যুরো অফ স্ট্যাটিস্টিকস জানিয়েছে যে জন্মহার ঐতিহাসিক সর্বনিম্নে নেমে এসেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিলক্ষিত একটি ধারা অব্যাহত রেখেছে। এটি সরকারের কয়েক দশক ধরে চলা এক-সন্তান নীতি শিথিল করা এবং বর্ধিত মাতৃত্বকালীন ছুটি ও আর্থিক প্রণোদনার মতো ব্যবস্থা প্রবর্তনের পরেও ঘটেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শহুরে এলাকায় সন্তান লালন-পালনের উচ্চ খরচ, সেইসঙ্গে নারীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান কর্মজীবনের আকাঙ্ক্ষা জন্মহার হ্রাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
জন্মহার কমে যাওয়া চীনের ভবিষ্যতের জন্য বেশ কয়েকটি চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একটি সঙ্কুচিত কর্মীবাহিনী অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে, যেখানে একটি বার্ধক্যজনিত জনসংখ্যা সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উপর ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে। এই জনমিতিক পরিবর্তনের কারণে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব কমাতে অর্থনৈতিক ও সামাজিক নীতিগুলোতে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
সরকার জনসংখ্যাতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন কৌশল অনুসন্ধান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবার-বান্ধব কর্মক্ষেত্র তৈরি, সাশ্রয়ী মূল্যের শিশু যত্নের সুযোগ বৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো। তবে, এই ব্যবস্থাগুলোর কার্যকারিতা এখনও দেখার বিষয়, কারণ গভীরভাবে প্রোথিত সামাজিক প্রথা এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতা পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে চলেছে।
সামনে তাকিয়ে, চীনকে একটি পরিবর্তনশীল জনমিতিক পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়ার কঠিন কাজের মুখোমুখি হতে হবে। উর্বরতার হারকে প্রভাবিত করে এমন অন্তর্নিহিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলো মোকাবিলার প্রচেষ্টার পাশাপাশি আরও নীতিগত সমন্বয় দেশটির ভবিষ্যৎ গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং জন্মহার বাড়ানোর জন্য নতুন উপায় অনুসন্ধান করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment