গ্রিনল্যান্ড নিয়ে নতুন করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জেদের পর ইউরোপীয় নেতারা তার প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের "পেতেই হবে" বলে পুনরায় জোর দিয়েছেন। সোমবার রাতে ট্রাম্পের এই মন্তব্যটি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (WEF) আগে আসে, যেখানে তার ইউরোপীয় নেতাদের সাথে সাক্ষাতের কথা রয়েছে।
এই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গ্রিনল্যান্ড, যা ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল এবং একইসাথে ইইউ ও ন্যাটোর সদস্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নাকি ডেনমার্কের মিত্রদের উপর চাপ দিচ্ছেন গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছেড়ে দেওয়ার জন্য এবং রাজি না হলে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির উপর শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের হুমকি দিচ্ছেন। এতে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে যাদের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল।
জার্মানির অর্থমন্ত্রী ডব্লিউইএফের আগে তার ফরাসি প্রতিপক্ষের সাথে জরুরি বৈঠকের পর এই চাপের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, "আমরা নিজেদের ব্ল্যাকমেইল হতে দেব না।" মন্ত্রীর এই বিবৃতি ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ প্রয়োগের কৌশল হিসেবে বিবেচিত কিছু বিষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন ঘটায়।
সম্ভাব্য শুল্ক ইউরোপীয় অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি, যা ইতিমধ্যেই নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। জার্মানির অটোমোটিভ সেক্টর এবং ইতালির বিলাসবহুল পণ্যের বাজারের মতো শিল্পগুলো, যা যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীল, বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
এই পরিস্থিতি ভূ-রাজনৈতিক জটিলতার উপর আলোকপাত করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র আর্কটিক অঞ্চলে তার কৌশলগত স্বার্থ জাহির করতে চাইছে। গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নতুন জাহাজ চলাচলের পথ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সুযোগ উন্মোচিত হওয়ায়।
গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ নতুন নয়; তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ডেনমার্ক এবং অন্যান্য ইউরোপীয় মিত্রদের কাছ থেকে প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়েছে। জনমত জরিপেও দেখা যায় যে বেশিরভাগ আমেরিকান গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের পক্ষে নন। এএফপি অনুসারে, জরিপ বলছে যে ৫৫% আমেরিকান এই ক্রয়ের বিপক্ষে।
ডব্লিউইএফ-এ আসন্ন বৈঠকগুলোতে এই বিরোধের তীব্রতা কমানো বা আরও বাড়ানোর কোনো লক্ষণ দেখা যায় কিনা, সেদিকে সবার নজর থাকবে। ইউরোপীয় প্রতিক্রিয়া সম্ভবত ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ট্রান্সআটলান্টিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল, যেখানে সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিণতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment