বিবিসি'র অ্যানালাইসিস এডিটর রস অ্যাটকিন্সের একটি বিশ্লেষণ অনুসারে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম বছরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেছে। পরিমাণগত ডেটার উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এই বিশ্লেষণে অর্থনৈতিক সূচক, নীতি পরিবর্তন এবং এই সময়ের মধ্যে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরীক্ষা করা হয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে, বছরটি স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি দ্বারা চিহ্নিত ছিল। শেয়ার বাজার লাভজনক ছিল এবং বেকারত্বের হার কম ছিল। তবে, এই সময়ে প্রণীত ট্যাক্স কাটের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত ছিল, কিছু অর্থনীতিবিদ যুক্তি দিয়েছিলেন যে এটি কর্পোরেশন এবং ধনী ব্যক্তিদেরকে অসামঞ্জস্যভাবে উপকৃত করেছে, আবার কেউ কেউ মনে করেন যে এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করেছে।
নীতি পরিবর্তনের মধ্যে ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ বাণিজ্য চুক্তি এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই সিদ্ধান্তগুলো আন্তর্জাতিক সমালোচনা সৃষ্টি করে এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। অভ্যন্তরীণভাবে, অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট বাতিল এবং প্রতিস্থাপনের প্রচেষ্টা কংগ্রেসে বাধার সম্মুখীন হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে, যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে বাণিজ্য ও নিরাপত্তার বিষয়ে আরও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বেড়ে যায় এবং চীনসহ বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য বিরোধ দেখা দেয়। প্রশাসন ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস জেরুজালেমে স্থানান্তর করে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনেকের কাছ থেকে নিন্দা কুড়িয়েছে।
অ্যাটকিন্সের বিশ্লেষণে এই পরিবর্তনগুলোর দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি মূল্যায়নের জটিলতা তুলে ধরা হয়েছে। কিছু নীতি তাৎক্ষণিক ফল দিলেও তাদের বৃহত্তর প্রভাব অনিশ্চিত রয়ে গেছে। বিশ্লেষণে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে অত্যন্ত মেরুকৃত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই ঘটনাগুলো ঘটেছে, যা বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নকে কঠিন করে তুলেছে। বিভিন্ন গোষ্ঠী একই ডেটাকে ভিন্ন ভিন্ন উপায়ে ব্যাখ্যা করেছে, যা আমেরিকান সমাজের মধ্যে গভীর বিভাজনকে প্রতিফলিত করে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment