'পুরোপুরি দিশেহারা ইউরোপ': গ্রিনল্যান্ড নিয়ে উত্তেজনায় রাশিয়ার উল্লাসস্টিভ রোজেনবার্গরাশিয়া সম্পাদকরয়টার্সডোনাল্ড ট্রাম্পের কথা শুনলে মনে হবে যেন মস্কো এবং বেইজিং গ্রিনল্যান্ডের উপকূলে ওঁৎ পেতে আছে, আর্কটিক অঞ্চলে নিজেদের ক্ষমতা বাড়াতে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য প্রস্তুত।"সেখানে রুশ ডেস্ট্রয়ার আছে, চীনা ডেস্ট্রয়ার আছে এবং আরও বড় বিষয় হলো, রাশিয়ার সাবমেরিন সর্বত্র ছড়িয়ে আছে," সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এমনটাই বলেছেন।আমেরিকার প্রেসিডেন্টের মতে, এই কারণেই গ্রিনল্যান্ডের উপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ জরুরি।তাহলে ভাবুন, মস্কো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তাদের কথিত ষড়যন্ত্র ফাঁস হয়ে যাওয়া এবং গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্র অধিগ্রহণ করার মাধ্যমে তা ভেস্তে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখে?রুশরা নিশ্চয়ই খুশি হয়নি। তাই তো?ভুল।লাইভ আপডেট অনুসরণ করুনএকটি বিস্ময়কর নিবন্ধে, রুশ সরকারের মুখপত্র ট্রাম্পের প্রশংসায় পঞ্চমুখ এবং গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার বিরোধিতাকারী ইউরোপীয় নেতাদের সমালোচনায় মুখর।"মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঐতিহাসিক সাফল্যের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে কোপেনহেগেনের একগুঁয়েমি এবং আমেরিকা তথা ব্রিটেন ও ফ্রান্সের তথাকথিত বন্ধুদের সমন্বয়ে গঠিত অনমনীয় ইউরোপীয় দেশগুলোর ভণ্ড সংহতি," লিখেছে রসিয়স্কায়া গেজেটা।"ইউরোপের আমেরিকান শ্রেষ্ঠত্বের প্রয়োজন নেই, যা ট্রাম্প প্রচার করছেন।
ব্রাসেলস মধ্যবর্তী কংগ্রেসনাল নির্বাচনে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে 'ডুবিয়ে' দেওয়ার উপর ভরসা করছে, যাতে তিনি তার জীবনের সেরা চুক্তিটি সম্পন্ন করতে না পারেন।" "সেরা চুক্তি"? প্রতিবেদক ব্যাখ্যা করেছেন এর অর্থ। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিতে হচ্ছে যে আমি রাশিয়ার সরকারি সংবাদপত্র পড়ছি, আমেরিকার কোনো ট্রাম্পপন্থী প্রকাশনা নয়।"যদি ট্রাম্প ২০২৬ সালের ৪ জুলাইয়ের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করেন, যখন আমেরিকা স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করবে, তবে তিনি ইতিহাসে এমন একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত হবেন যিনি যুক্তরাষ্ট্রের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন," লিখেছে রসিয়স্কায়া গেজেটা।"গ্রিনল্যান্ড সহ, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার পরে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ হবে, আয়তনে কানাডাকেও ছাড়িয়ে যাবে।
আমেরিকানদের জন্য, এটি ১৮৬২ সালে আব্রাহাম লিঙ্কন কর্তৃক দাসত্ব বিলোপ অথবা নেপোলিয়নিক যুদ্ধের আঞ্চলিক বিজয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।"যদি ট্রাম্পের কল্যাণে গ্রিনল্যান্ড আমেরিকার অংশ হয়ে যায়, তবে আমেরিকান জনগণ নিশ্চিতভাবে এমন একটি অর্জন ভুলবে না।"এবং আমেরিকান প্রেসিডেন্টের জন্য রুশ প্রতিবেদকের এই বার্তা: পিছিয়ে যাবেন না।"গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পিছু হটা আমেরিকান প্রেসিডেন্টের জন্য বিপজ্জনক। এটি মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান দুর্বল করে দেবে এবং সম্ভবত ক্যাপিটল হিলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করবে, যার ফলস্বরূপ ট্রাম্পের জন্য খারাপ কিছু ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, নির্বাচনের আগে গ্রিনল্যান্ডকে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করা এই রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তন করতে পারে।"কেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড চান এবং এর অর্থ ন্যাটোর জন্য কী হতে পারে?'ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না,' গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের হুমকির পর ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যগ্রিনল্যান্ড বিরোধকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার সঙ্গে জুড়ে দিলেন ট্রাম্পঅন্য কথায়, রুশ সরকারের মুখপত্র অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাওয়া ট্রাম্পের স্বার্থেই রয়েছে।বিষয়টি গভীরভাবে ভাবুন।কিন্তু মস্কোর কাছ থেকে কেন এই প্রশংসা? কেন এই আপাত উৎসাহ?কারণ বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অনেক কিছু পাওয়ার আছে।গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের মোহ, দ্বীপটি দখল করার তার সংকল্প এবং তার পরিকল্পনার বিরোধিতাকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর উপর শুল্ক আরোপের কারণে ট্রান্সআটলান্টিক জোটে বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়েছে: আমেরিকা ও ইউরোপের মধ্যে সম্পর্ক এবং ন্যাটোর অভ্যন্তরেও।পশ্চিমা জোটকে দুর্বল বা বিভক্ত করার মতো যেকোনো কিছুই মস্কো রাশিয়ার জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখে।"ইউরোপ পুরোপুরি দিশেহারা এবং সত্যি বলতে, এটি দেখতে ভালো লাগছে," গ্রিনল্যান্ড নিয়ে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে এমন মন্তব্য করেছে রুশ ট্যাবলয়েড মস্কোভস্কি কমসোমোলেটস।শুধু তাই নয়, গ্রিনল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার আমেরিকান হুমকিকে ক্রেমলিনপন্থী ভাষ্যকাররা ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার যুদ্ধকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য ব্যবহার করছেন।ইউক্রেনে বিজয় ক্রেমলিনের প্রধান লক্ষ্য। মস্কো মনে করে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে একটি ইতিবাচক সম্পর্ক বজায় রাখলে এই লক্ষ্য অর্জনে সাহায্য করবে।এজন্যই রাশিয়ার ইউরোপের সমালোচনা।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment