রিপোর্ট অনুযায়ী, মঙ্গলবার অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের ত্রাণ ও কর্ম সংস্থা (UNRWA)-এর সদর দফতর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কট্টর-ডানপন্থী ইজরায়েলি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের তত্ত্বাবধানে এই ধ্বংসলীলা চালানো হয় এবং ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তা প্রদানকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর উপর ইজরায়েলের ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধের মধ্যে এটি ঘটেছে।
UNRWA-এর ভবন ধ্বংসের ঘটনাটি এই অঞ্চলে মানবিক কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত UNRWA মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি শরণার্থীকে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহায়তা সহ অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা প্রদান করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষ করে ৭ই অক্টোবরের হামলায় কর্মীদের জড়িত থাকার অভিযোগের পর থেকে সংস্থাটি ক্রমবর্ধমান যাচাই-বাছাই ও তহবিল कटौतीর সম্মুখীন হয়েছে।
ইজরায়েলি সরকার দীর্ঘদিন ধরে UNRWA-এর বিরুদ্ধে ইজরায়েলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সমস্যা জিইয়ে রাখার অভিযোগ করে আসছে। এই অভিযোগগুলো সংস্থার বন্ধ এবং অন্যান্য সংস্থাকে এর দায়িত্ব হস্তান্তরের আহ্বানের তীব্রতা বাড়িয়েছে। এই অবস্থানের সমালোচকরা বলছেন যে UNRWA ভেঙে দেওয়া হলে এই অঞ্চলের মানবিক সংকট আরও বাড়বে এবং ইজরায়েল-ফিলিস্তিনি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে যাবে।
পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে, যার মধ্যে ইজরায়েলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষ এবং বসতি স্থাপন কার্যক্রম বৃদ্ধি অন্যতম। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বারবার ইজরায়েলকে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধ করার এবং অধিকৃত অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
পূর্ব জেরুজালেমে UNRWA-এর কার্যক্রমের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। সংস্থাটি এই ধ্বংসযজ্ঞের নিন্দা জানিয়েছে এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে। তবে, ইজরায়েলি সরকারের পদক্ষেপগুলো UNRWA-এর কার্যক্রমকে আরও সীমিত করতে এবং ফিলিস্তিনিদের মানবিক সহায়তার উপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ আরোপের সংকল্পের ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনাগুলোর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের কল্যাণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment