নতুন এক গবেষণা অনুসারে, উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে অ্যান্টার্কটিকার পেঙ্গুইনরা আগের চেয়ে আগে বংশবৃদ্ধি করছে, যা শতাব্দীর শেষ নাগাদ সম্ভাব্য বিলুপ্তির সম্মুখীন হওয়া দুটি প্রজাতির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি সৃষ্টি করছে। জার্নাল অফ অ্যানিমাল ইকোলজিতে মঙ্গলবার প্রকাশিত গবেষণাটিতে দেখা গেছে যে তিনটি পেঙ্গুইন প্রজাতি এক দশক আগের তুলনায় প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তাদের প্রজনন প্রক্রিয়া শুরু করছে।
প্রজনন সময়ের এই পরিবর্তন ২০১২ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে পেঙ্গুইনদের প্রজনন ক্ষেত্রগুলিতে তাপমাত্রার ৫.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট (৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস) বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কযুক্ত। এই ত্বরান্বিত প্রজনন চক্র অল্প বয়সী ছানাদের জন্য খাদ্য সংকট তৈরি করতে পারে, যা তাদের বেঁচে থাকার হারকে বিপন্ন করে।
"পেঙ্গুইনরা অন্য যেকোনো মেরুদণ্ডী প্রাণীর চেয়ে দ্রুতগতিতে তাদের প্রজননের সময় পরিবর্তন করছে," অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী এবং গবেষণার প্রধান লেখক ইগনাচিও জুয়ারেজ মার্টিনেজ বলেছেন। "এবং এটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ আপনি যে সময়ে বংশবৃদ্ধি করেন তা..." [sic - উৎস থেকে অসম্পূর্ণ উদ্ধৃতি]।
গবেষণাটি অ্যান্টার্কটিকার বাস্তুতন্ত্রের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের গভীর প্রভাব তুলে ধরেছে। অ্যাডেলী এবং সম্রাট পেঙ্গুইন, তাদের স্বতন্ত্র টাক্সেডো-সদৃশ পালকের জন্য পরিচিত, বিশেষভাবে দুর্বল। আগের প্রজনন মৌসুম ক্রিল এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎসের প্রাচুর্যের সাথে নাও মিলতে পারে, যা একটি অমিল তৈরি করে এবং ব্যাপক ছানা মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
গবেষণাটি পেঙ্গুইন জনসংখ্যার উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব প্রশমিত করার জন্য জরুরি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেয়। বিজ্ঞানীরা পেঙ্গুইন আবাসস্থল এবং প্রজনন ধরনে ভবিষ্যতের পরিবর্তনগুলি অনুমান করতে এআই-চালিত মডেল ব্যবহার করছেন। এই মডেলগুলি সমুদ্রের বরফের বিস্তার, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং শিকারের সহজলভ্যতার মতো পরিবেশগত কারণগুলির বিশাল ডেটাসেট বিশ্লেষণ করে পেঙ্গুইন জনসংখ্যা চলমান উষ্ণতার প্রতি কীভাবে সাড়া দেবে তা পূর্বাভাস দেয়।
পরিবেশগত গবেষণায় এআই-এর ব্যবহার ক্রমশ বাড়ছে। মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদমগুলি জটিল ডেটাসেটে সূক্ষ্ম প্যাটার্ন এবং প্রবণতা সনাক্ত করতে পারে যা মানুষের পক্ষে সনাক্ত করা কঠিন। এটি গবেষকদের প্রজাতি এবং তাদের পরিবেশের মধ্যে জটিল সম্পর্কগুলির গভীরতর ধারণা পেতে সহায়তা করে।
এই আবিষ্কারের সমাজের জন্য বৃহত্তর প্রভাব রয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মেরু অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্রের দুর্বলতাকে তুলে ধরে। পেঙ্গুইন জনসংখ্যার হ্রাস পুরো অ্যান্টার্কটিকার খাদ্য শৃঙ্খলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, যা অন্যান্য প্রজাতিকে প্রভাবিত করবে যারা খাদ্য উৎস হিসাবে পেঙ্গুইনের উপর নির্ভরশীল।
গবেষণার লেখকরা জলবায়ু পরিবর্তনের গতি কমাতে এবং পেঙ্গুইনের মতো দুর্বল প্রজাতিকে রক্ষা করার জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমানোর গুরুত্বের উপর জোর দিয়েছেন। পেঙ্গুইন জনসংখ্যার উপর আগের প্রজননের দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি বুঝতে এবং কার্যকর সংরক্ষণ কৌশল বিকাশের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment