মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহামাদ হাসানের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর সংস্থা (আসিয়ান) মিয়ানমারে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সমর্থন করবে না। হাসান মঙ্গলবার পার্লামেন্টকে জানান, আসিয়ানের নেতারা অক্টোবরে তাদের শীর্ষ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অবাধ অংশগ্রহণের অভাব নিয়ে উদ্বেগের কারণে।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করার পর এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন। এই মাসের শুরুতে দ্বিতীয় দফা ভোটগ্রহণের পর সামরিক-সমর্থিত রাজনৈতিক দল সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ব্যাপক বিরোধিতার জন্ম দেয়, যা একটি গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
মানবাধিকার সংস্থা এবং বিরোধী দলগুলো এই নির্বাচনকে অবাধ বা সুষ্ঠু কোনোটিই নয় বলে নিন্দা করেছে, এবং অভিযোগ করেছে যে এটি সামরিক জান্তার শাসনকে বৈধতা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা। এই দলগুলোর দাবি, চলমান সংঘাত এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার উপর বিধিনিষেধের কারণে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের শর্ত পূরণ হয়নি।
আসিয়ানের এই সিদ্ধান্ত মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে আঞ্চলিক জোটের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে প্রতিফলিত করে। সংস্থাটি সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে, কিন্তু অগ্রগতি সীমিত। হাসান জানান, এসব উদ্বেগের কারণে আসিয়ান নেতারা নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মিয়ানমারের পরিস্থিতি এখনও অস্থির, সামরিক বাহিনী এবং বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, অনেক দেশ সামরিক শাসনের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আসিয়ানের সমর্থন না থাকা সামরিক সরকারকে আরও বিচ্ছিন্ন করে এবং নির্বাচনের ফলাফলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
Discussion
Join the conversation
Be the first to comment